ভারত ও পাকিস্তানের বহুল প্রতীক্ষিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ম্যাচ দেখতে শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় ছুটে যাচ্ছেন হাজারো ভারতীয় সমর্থক। আকাশছোঁয়া বিমানভাড়া, হোটেলের বাড়তি দাম এবং টিকিট পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা—সব বাধা মেনেই তারা এই ম্যাচ উপভোগ করতে আগ্রহী।
রবিবার কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচকে ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার লড়াই হিসেবে দেখা হয়। বহু সমর্থকের কাছে এটি শুধু খেলা নয়, মর্যাদা ও আবেগের বিষয়।
ভারত ও পাকিস্তানের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের ইতিহাস এই লড়াইকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে। এবারও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অনিশ্চয়তা ছিল, কারণ শুরুতে পাকিস্তান এই ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। পরে সেই সিদ্ধান্ত বদলানো হলে ম্যাচ ঘিরে উন্মাদনা আরও বেড়ে যায়।
তবে দেরিতে নিশ্চিত হওয়ায় ভ্রমণ পরিকল্পনায় বড় চাপ পড়ে সমর্থকদের ওপর। ম্যাচের মাত্র ছয় দিন আগে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ চূড়ান্ত হওয়ায় ভারতের বিভিন্ন শহর থেকে কলম্বোগামী বিমানের ভাড়া হঠাৎ বেড়ে যায়।
মুম্বাইয়ের এক আর্থিক খাতের কর্মী আদিত্য ছেদা জানান, সাধারণ সময়ের তুলনায় প্রায় অর্ধেক বেশি ভাড়া দিতে হয়েছে তাকে। এক মাস আগে টিকিট কাটা এবং সরাসরি ফ্লাইটের বদলে বিরতিযুক্ত ফ্লাইট নেওয়ার পরও খরচ বেশি পড়েছে।
ম্যাচের দুই দিন আগে মুম্বাই থেকে কলম্বো যাওয়া–আসার সরাসরি বিমানভাড়া যেখানে সাধারণত প্রায় ২৭৫ ডলার, তা বেড়ে এক হাজার ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। বেঙ্গালুরু ও চেন্নাই থেকেও একই চিত্র দেখা গেছে। চেন্নাই–কলম্বো রুটে স্বাভাবিক ১৬৫ ডলারের ভাড়া বেড়ে অন্তত ৫৫০ ডলার হয়েছে।
আগে পরিকল্পনা করায় বেঙ্গালুরুর পার্থ চৌহান তুলনামূলক কম দামে টিকিট পেলেও তার সঙ্গীদের তিন গুণ পর্যন্ত বেশি খরচ করতে হয়েছে দেরিতে বুকিং দেওয়ায়।
শুধু যাতায়াত নয়, আবাসন খরচও বেড়েছে। কলম্বোর পাঁচ তারকা হোটেলগুলোতে ম্যাচের সময় প্রতি রাতের ভাড়া ৪০০ থেকে ১০০০ ডলারের মধ্যে উঠেছে।
টিকিট পেতেও ভোগান্তি কম নয়। পার্থ চৌহানকে অনলাইনে চার ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে টিকিট কিনতে। তবুও তিনি বলছেন, প্রথমবার দেশের বাইরে ভারতের খেলা দেখার সুযোগ পাওয়ায় সব কষ্ট সার্থক।
অন্যদিকে কেউ কেউ কম দামে টিকিট পেয়ে বিস্মিতও হয়েছেন। বেঙ্গালুরুর তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী পিয়ূষ নাথানি মাত্র ৫ ডলারে টিকিট পেয়েছেন। তার ভাষায়, এত বড় ম্যাচের জন্য এটি অবিশ্বাস্য সস্তা।
২০২৩ সালে আহমেদাবাদে ভারতের জয় দেখেছিলেন নাথানি। এবার নিরপেক্ষ ভেন্যুতে দুই দেশের সমর্থকদের একসঙ্গে ম্যাচ উপভোগ করার সুযোগ তাকে বেশি আনন্দ দিচ্ছে।
তার মতে, পাকিস্তানকে হারানোর আনন্দ অর্থ দিয়ে মাপা যায় না। বিশ্বকাপ জেতা বড় লক্ষ্য হলেও পাকিস্তানকে হারানো আলাদা তৃপ্তি দেয়।
অনেক সমর্থকের কাছেই এই লড়াই কেবল ক্রিকেট ম্যাচ নয়, আবেগ, গর্ব এবং স্মরণীয় অভিজ্ঞতার নাম।
















