আসনপ্রতি গড় ব্যয় সাড়ে ১০ কোটি টাকা; গণভোট ও প্রবাসী ব্যালট ব্যবস্থাপনায় খরচ বেড়েছে কয়েক গুণ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদের গণভোট কেবল রাজনৈতিক গুরুত্বেই নয়, বরং ব্যয়ের দিক থেকেও বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও সরকারি সূত্র অনুযায়ী, এবারের ভোট আয়োজনে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকা, যা বিগত যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি। এর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পেছনেই ব্যয় হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা এবং নির্বাচন পরিচালনায় ব্যয় হচ্ছে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। মূলত প্রথমবারের মতো প্রবাসীদের জন্য পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা এবং একই সাথে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন করায় এই বিপুল খরচের বোঝা তৈরি হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০০১ সালের অষ্টম নির্বাচনে যেখানে খরচ ছিল মাত্র ৭২ কোটি টাকা, সেখানে ২৫ বছরের ব্যবধানে এই ব্যয় ৩ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়া দেশের অর্থনীতির জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ ও আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইসি কর্মকর্তাদের তথ্যানুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ছাড়িয়ে যাওয়ায় লজিস্টিক ও জনবল ব্যবস্থাপনা ছিল বিশাল। বিশেষ করে প্রবাসীদের জন্য প্রতিটি পোস্টাল ব্যালট পাঠাতে ও গ্রহণ করতে গড়ে ৭০০ টাকা করে খরচ হয়েছে, যেখানে দেশে সাধারণ ভোটারের পেছনে ব্যয় মাত্র ২৩ টাকা।
এছাড়া জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, ৮ লাখ নিরাপত্তা বাহিনীর খোরাকি ভাতা এবং ‘সুরক্ষা অ্যাপ’-এর মতো প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার কারণেও বাজেট কয়েক গুণ বেড়েছে। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে যেখানে ২ হাজার ২৭৬ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছিল, সেখানে এবারের ৩ হাজার ১৫০ কোটির বাজেট নতুন রেকর্ড।
তবে ব্যয়ের এই অঙ্ক নিয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। ইসির বাজেট ও ফাইন্যান্স শাখার এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আপৎকালীন পরিস্থিতি সামলাতে ৩ হাজার কোটির বেশি বরাদ্দ রাখা হলেও প্রকৃত ব্যয় ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।
তবুও বিশ্লেষকরা বলছেন, কেবল ব্যয় বাড়ানোই যথেষ্ট নয়; এই বিপুল অর্থের বিনিময়ে কতটা বিশ্বাসযোগ্য ও স্বচ্ছ নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব হলো, সেটিই আসল প্রশ্ন। ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের পর এখন সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—এই বিশাল খরচের সার্থকতা মিলবে একটি জবাবদিহিমূলক এবং শক্তিশালী গণতান্ত্রিক কাঠামো প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে।
















