বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার যুক্তিতর্ক সম্প্রতি শেষ হয়েছে। আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সমাপ্ত হওয়ায় আজ (বৃহস্পতিবার) মামলার রায়ের দিন ধার্য করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি গতকাল (বুধবার) এই তথ্য জানান।
মামলার অপর দুই আসামি হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। উল্লেখ্য, চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ইতোমধ্যে নিজের দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হয়েছেন।
প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম জানান, “এ মামলায় পলাতক আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবী এবং উপস্থিত রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়েছে। প্রসিকিউশনের পক্ষে আমরা জবাব দেব। কিছু অংশ উপস্থাপন করে জবাব দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) চিফ প্রসিকিউটর ও অ্যাটর্নি জেনারেল সমাপনী বক্তব্য দেবেন। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে এ মামলার রায়ের জন্য দিন ধার্য হবে।”
আসামিপক্ষে গতকাল যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী মো. আমির হোসেন। টানা তিনদিনের যুক্তি উপস্থাপন শেষে তিনি তার মক্কেলদের নির্দোষ দাবি করে খালাসের আবেদন জানান।
ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে এই যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষীদের জবানবন্দি নিয়ে গতকাল যুক্তি খণ্ডন করেন আমির হোসেন। তিনি বিশেষত রাজসাক্ষী চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ কয়েকজনের সাক্ষ্য সামনে আনেন এবং তাদের দেওয়া সাক্ষ্য প্রত্যাখ্যান করেন।
এরপর রাজসাক্ষী মামুনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন তার আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ। ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, মঈনুল করিম, সুলতান মাহমুদসহ অন্যান্যরা।
উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায় গত ১০ জুলাই স্বীকার করে নিয়েছিলেন চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। ওইদিন তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে জানান, “জুলাই-আগস্টে আন্দোলন চলাকালে আমাদের বিরুদ্ধে হত্যা-গণহত্যা সংঘটনের যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সত্য। এ ঘটনায় আমি নিজেকে দোষী সাব্যস্ত করছি। আমি রাজসাক্ষী হয়ে জুলাই-আগস্ট আন্দোলন চলাকালে যে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, তার বিস্তারিত আদালতে তুলে ধরতে চাই। রহস্য উন্মোচনে আদালতকে সহায়তা করতে চাই।”
একইদিন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে আদেশ দেন এবং মামলা থেকে আসামিদের অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে দেন।
















