উত্তর-পূর্ব ভারতের মণিপুর রাজ্যে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। গত দুদিন ধরে উখুরুল জেলায় কুকি ও টাংখুল নাগা সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
মারধরকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার গভীর রাতে লিটান গ্রামে এক টাংখুল নাগা ব্যক্তিকে সাত-আটজন মারধর করার অভিযোগ ওঠে। প্রথমে বিষয়টি পরিবার ও গ্রামের প্রধানদের আলোচনার মাধ্যমে প্রথাগত রীতিতে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়।
রোববার দুপুরে আনুষ্ঠানিক বৈঠক ডাকা হলেও সেখানে সমাধান না হয়ে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। মধ্যরাতে লিটান সারেখং এলাকায় টাংখুল নাগা পরিবারের একাধিক বাড়িতে আগুন দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পাল্টা হিসেবে আশপাশে কুকি সম্প্রদায়ের কয়েকটি বাড়িতেও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
ভিডিও ছড়ালেও যাচাই হয়নি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে সশস্ত্র ব্যক্তিদের বাড়ি ও যানবাহনে আগুন দিতে এবং গুলি ছুড়তে দেখা গেছে। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব ভিডিওর সত্যতা স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা
একজন জেলা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি এখনো থমথমে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে লিটান গ্রামের বিভিন্ন প্রবেশপথে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
রোববার সন্ধ্যায় বিক্ষোভকারীরা পাথর নিক্ষেপ করলে নিরাপত্তাকর্মীরা টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে দুই পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করেন। সন্ধ্যা ৭টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাধারণ মানুষের চলাচলে বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে।
উখুরুলের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আশীষ দাসের আদেশে জানানো হয়েছে, কুকি ও টাংখুল নাগা সম্প্রদায়ের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার কারণে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
















