মাদাগাস্কারের সামরিক সরকার এসওয়াতিনির তীব্র সমালোচনা করেছে, কারণ দেশটি গত সপ্তাহে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রেসিডেন্ট আন্দ্রি রাজোয়েলিনাকে আতিথ্য দিয়েছে। সামরিক শাসক কর্নেল মাইকেল র্যান্ড্রিয়ানিরিনা এ ঘটনাকে দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর “গুরুতর লঙ্ঘন” বলে অভিহিত করেছেন।
গত শুক্রবার এসওয়াতিনি সরকার সামাজিক মাধ্যমে রাজা তৃতীয় মাসওয়াতির সঙ্গে রাজোয়েলিনার বৈঠকের ছবি প্রকাশ করে। সেখানে রাজা মাদাগাস্কারের সামরিক জান্তাকে সাংবিধানিক শাসন পুনর্বহালের আহ্বান জানান। তবে এসওয়াতিনির পক্ষ থেকে বলা হয়, এই বৈঠক আঞ্চলিক কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ এবং এটি মাদাগাস্কারের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের উদ্দেশ্যে নয়।
রাজোয়েলিনা গত অক্টোবর মাসে যুব-নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে সামরিক বাহিনীর একাংশের সমর্থনে ক্ষমতাচ্যুত হন। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ ও পানির সংকটকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ চলছিল, যার এক পর্যায়ে সেনাবাহিনী বিক্ষোভকারীদের পক্ষে অবস্থান নেয়। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এটিই ছিল তার প্রথম প্রকাশ্য কূটনৈতিক উপস্থিতি।
মাদাগাস্কারের সামরিক কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, রাজোয়েলিনা অন্য একটি দেশের নাগরিকত্ব নেওয়ার পর স্বেচ্ছায় মালাগাসি নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন। ফলে নিজেকে বৈধ প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থাপন করার যে কোনো প্রচেষ্টা “আইনগতভাবে অগ্রহণযোগ্য”। তারা আরও দাবি করে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে সহিংস ঘটনার সময় তিনি রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন, যখন প্রায় ৩০ জন নিহত হন।
সামরিক সরকার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, এসওয়াতিনিতে তাকে স্বাগত জানানো চলমান জাতীয় পুনর্মিলন ও সাংবিধানিক পুনর্বহাল প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে।
এর জবাবে এসওয়াতিনির রাজপ্রাসাদের মুখপাত্র পার্সি সিমেলানে বলেন, রাজোয়েলিনা কোনো ধরনের সুরক্ষা বা হস্তক্ষেপ চাইতে আসেননি। তিনি জানান, বৈঠকের আগে দক্ষিণ আফ্রিকান উন্নয়ন সম্প্রদায়ের সঙ্গে পরামর্শ করা হয়েছিল। মাদাগাস্কারের সমালোচনাকে তিনি “ভুল ও দুঃখজনক” বলে মন্তব্য করেন।
সামরিক শাসক র্যান্ড্রিয়ানিরিনা দুই বছরের মধ্যে নতুন নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। গত ডিসেম্বর আঞ্চলিক জোট মাদাগাস্কারকে গণতন্ত্র পুনর্বহালের রূপরেখা ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়, যার মধ্যে নতুন নির্বাচনের পরিকল্পনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
















