ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ইউরোপকে বিশ্বমঞ্চে আরও দৃঢ়ভাবে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। চীন, রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে ইউরোপের জন্য এটি এক ‘জাগরণের মুহূর্ত’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
ইউরোপীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে ম্যাক্রোঁ বলেন, ইউরোপ কি নিজেকে একটি শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে প্রস্তুত—এখন সেই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে। অর্থনীতি, প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ইউরোপকে আরও সক্ষম হতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
যৌথ ঋণ ও বিনিয়োগের প্রস্তাব
ম্যাক্রোঁ পুনরায় ইউরোপীয় ইউনিয়নজুড়ে যৌথ ঋণ ব্যবস্থার প্রস্তাব দেন, যাতে শিল্প বিনিয়োগের জন্য শত শত বিলিয়ন ইউরো তোলা সম্ভব হয়। তার মতে, ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের জন্য ‘ইউরোবন্ড’ চালু করা জরুরি এবং বড় ইউরোপীয় প্রকল্পে সমন্বিত অর্থায়ন প্রয়োজন।
তবে অতীতে এ ধরনের প্রস্তাবে জার্মানিসহ কয়েকটি দেশ সংশয় প্রকাশ করেছিল। তাদের আশঙ্কা, ফ্রান্স নিজস্ব আর্থিক সংস্কারে ব্যর্থ হয়ে ইউরোপের ওপর বোঝা চাপাতে চায়। ম্যাক্রোঁ স্বীকার করেন, ফ্রান্সের অর্থনৈতিক মডেল সবসময় ভারসাম্যপূর্ণ ছিল না এবং দক্ষিণ ইউরোপের কয়েকটি দেশ যে সংস্কার করেছে, তা ফল দিচ্ছে।
নিরাপত্তা ও কৌশলগত খাত
ম্যাক্রোঁর হিসাব অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বছরে প্রায় ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ইউরো প্রয়োজন প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিনিয়োগের জন্য। তিনি বলেন, ইউরোপ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে উন্মুক্ত বাজার, অথচ চীন ও যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের শিল্পকে সুরক্ষা দেয়। ইউরোপকেও নিজেদের উৎপাদকদের ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য করতে হবে।
পরিবর্তিত বিশ্ব বাস্তবতা
ম্যাক্রোঁ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ত্বরান্বিত হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র আর আগের মতো ইউরোপের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিচ্ছে না, রাশিয়ার সস্তা জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়েছে এবং চীন ক্রমেই প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠছে। এই প্রেক্ষাপটে ৪৫০ মিলিয়ন মানুষের ইউরোপকে নিজেদের শক্তি উপলব্ধি করতে হবে।
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রসঙ্গ টেনে ম্যাক্রোঁ সতর্ক করেন, সাময়িক সমঝোতায় বিভ্রান্ত হওয়া উচিত নয়। তার ভাষায়, হুমকি ও চাপের পর আপাত পিছু হটা মানেই সংকট শেষ নয়।
ম্যাক্রোঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, তিনি ইউরোপকে শুধু অর্থনৈতিক জোট নয়, বরং পূর্ণাঙ্গ ভূরাজনৈতিক শক্তি হিসেবে গড়ে তোলার পক্ষে।
















