ফিলিপাইনের সর্বোচ্চ আদালত এক ঐতিহাসিক রায়ে ঘোষণা করেছে, সমলিঙ্গ দম্পতিরা প্রমাণ সাপেক্ষে সম্পত্তির যৌথ মালিক হিসেবে স্বীকৃতি পেতে পারেন। দেশের পারিবারিক বিধির একটি ধারা প্রথমবারের মতো এ ধরনের মামলায় প্রয়োগ করা হলো।
রায় অনুযায়ী, যদি প্রমাণ করা যায় যে উভয় পক্ষ সম্পত্তি কেনা বা সংস্কারে আর্থিক অবদান রেখেছেন, তবে তারা যৌথ মালিক হিসেবে বিবেচিত হবেন। যদিও দেশটিতে সমলিঙ্গ বিবাহ বৈধ নয় এবং বিবাহকে পুরুষ ও নারীর বন্ধন হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, তবু আদালত বলেছে—একসঙ্গে বসবাসকারী কিন্তু আইনত বিবাহ করতে অক্ষম ব্যক্তিদের সম্পত্তি সম্পর্কিত বিধান লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য করে না।
মামলাটি ছিল দুই নারীর মধ্যে, যারা একসময় দম্পতি ছিলেন। তারা ম্যানিলার উপকণ্ঠে একটি বাড়ি ও জমি কেনেন। পরে সম্পত্তি বিক্রি নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে একজন আদালতে ভাগ চেয়ে আবেদন করেন। নিম্ন আদালত ও আপিল আদালত আবেদন খারিজ করলেও সর্বোচ্চ আদালত ৫ ফেব্রুয়ারি সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে।
আদালত একটি নথির উল্লেখ করে জানায়, এক পক্ষ বাড়ি কেনা ও সংস্কারের ৫০ শতাংশ খরচ বহন করেছিলেন—যা অপর পক্ষও স্বীকার করেছিলেন। যদিও সম্পত্তিটি কাগজপত্র সহজ করার জন্য একজনের নামে নিবন্ধিত ছিল, আদালত তা যৌথ মালিকানার দাবি খারিজের কারণ হিসেবে গ্রহণ করেনি।
রায়ে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট ধারাটি সব ধরনের সহবাসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। নচেৎ কিছু বৈধ ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে আইনত অদৃশ্য করে দেওয়া হবে। একজন বিচারপতি মন্তব্য করেন, আধুনিক সমাজের মূল্যবোধ বিবেচনায় সমলিঙ্গ দম্পতিদের বাদ দেওয়া অন্যায্য হবে।
সর্বোচ্চ আদালতের মুখপাত্র জানিয়েছেন, সমলিঙ্গ দম্পতির সম্পত্তি অধিকার নিয়ে এই ধারার প্রয়োগ এটিই প্রথম।
রায়ে সরকার ও আইনপ্রণেতাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, সমলিঙ্গ দম্পতিদের অধিকার ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সমাধান খুঁজতে সংসদকে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।
















