হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী জন লি গণতন্ত্রপন্থী সংবাদপত্র মালিক জিমি লাইকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, লাই বহু জঘন্য অপরাধ করেছেন এবং তার দুষ্কর্মের সীমা নেই। জন লির এই মন্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশ ও জাতিসংঘ রায়টিকে অন্যায় বলে উল্লেখ করে মানবিক কারণে ৭৮ বছর বয়সী লাইকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক বলেন, এই রায় আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং দ্রুত তা বাতিল করা উচিত। তবে জন লি দাবি করেন, লাইয়ের মালিকানাধীন সংবাদপত্র ২০১৯ সালের সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় নাগরিকদের উসকে দিয়েছে এবং আইন ভাঙতে প্ররোচিত করেছে। তার মতে, ২০ বছরের কঠোর সাজা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রমাণ।
সোমবার লাইয়ের সঙ্গে আরও আটজনকে সাজা দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে অ্যাপল ডেইলির ছয়জন সাবেক কর্মীও রয়েছেন। তাদের কারাদণ্ড ছয় বছর তিন মাস থেকে ১০ বছর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২০ সালে বেইজিং হংকংয়ে জাতীয় নিরাপত্তা আইন জারির পর এটি সবচেয়ে কঠোর শাস্তি বলে মনে করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই রায়কে অন্যায্য ও দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি দেখায় যে বেইজিং মৌলিক স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলা ব্যক্তিদের নীরব করতে কতদূর যেতে পারে। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপারও মানবিক কারণে লাইকে মুক্তির আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এই বয়সে ২০ বছরের সাজা কার্যত আজীবন কারাদণ্ডের সমান এবং লাইয়ের স্বাস্থ্যের অবস্থা নিয়ে তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
ডিসেম্বরে লাইকে বিদেশি শক্তির সঙ্গে যোগসাজশের দুটি অভিযোগ এবং রাষ্ট্রদ্রোহের একটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। অভিযোগ ছিল, তিনি আন্দোলনকে সমর্থন দিয়েছেন এবং হংকং নেতাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন। লাই দীর্ঘদিন ধরে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সমালোচক ও হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনের সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
এদিকে আন্তর্জাতিক সমালোচনার মধ্যেও চীন বলেছে, হংকংয়ের স্থিতিশীলতা রক্ষায় জাতীয় নিরাপত্তা আইন প্রয়োজন। দেশটির রাষ্ট্রপরিষদের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যারা হংকংকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছে, তাদের আইনের আওতায় এনে দণ্ড দেওয়া হয়েছে।
















