কেনিয়ায় তীব্র খরার কারণে দুই মিলিয়নের বেশি মানুষ খাদ্যসংকটে পড়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। বিশেষ করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পশুপালননির্ভর জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সোমালিয়া সীমান্তবর্তী এলাকায় অনাহারে মারা যাওয়া গবাদিপশুর ছবি পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৃষ্টির মৌসুম ছোট হয়ে আসায় খরার প্রকোপ বেড়েছে এবং প্রথমেই মারা যাচ্ছে পশুসম্পদ। ২০২০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে কেনিয়া, ইথিওপিয়া ও সোমালিয়ায় মিলিয়ন মিলিয়ন পশু মারা গিয়েছিল; সেই সংকটের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আফ্রিকার শৃঙ্গ অঞ্চল টানা চারটি বর্ষা মৌসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টি পায়নি। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের সর্বশেষ মৌসুম ছিল রেকর্ডের মধ্যে অন্যতম শুষ্ক। জাতিসংঘের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, পূর্ব কেনিয়ায় ১৯৮১ সালের পর এ সময়ের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ খরা দেখা দিয়েছে।
কেনিয়ার জাতীয় খরা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশের অন্তত ১০টি কাউন্টিতে খরা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সোমালিয়া সীমান্তঘেঁষা মানদেরা কাউন্টিতে পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। সেখানে তীব্র পানি সংকটের কারণে গবাদিপশু মারা যাচ্ছে এবং শিশুদের মধ্যে অপুষ্টি বাড়ছে।
প্রতিবেশী দেশগুলোতেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জানুয়ারির শেষদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সোমালিয়া, তানজানিয়া ও উগান্ডায় একই রকম সংকটের কথা জানায়। দক্ষিণ সোমালিয়ায় পরিচালিত এক মূল্যায়নে দেখা গেছে, খরার কারণে পরিবারগুলো এলাকা ছেড়ে পালাচ্ছে এবং শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিচ্ছে। বাইদোয়ায় আশ্রিতদের ৭০ শতাংশ দিনে একবেলা বা তারও কম খাবার পাচ্ছে; শিশুদের মধ্যে অপুষ্টির দৃশ্যমান লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত মহাসাগরের উষ্ণতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঘূর্ণিঝড় আরও ধ্বংসাত্মক হচ্ছে এবং খরা দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্রতর হচ্ছে। বৃষ্টিনির্ভর কৃষির ওপর নির্ভরশীল আফ্রিকার দেশগুলো এতে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছে। কৃষকদের অভিযোগ, বাড়তি তাপমাত্রায় চারণভূমি নষ্ট হচ্ছে এবং ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের মাত্র ৩ থেকে ৪ শতাংশের জন্য দায়ী হলেও আফ্রিকা জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় বোঝা বহন করছে। সীমিত দুর্যোগ প্রস্তুতি অবকাঠামোর কারণে চরম আবহাওয়া মোকাবিলায় মহাদেশটি আরও বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
















