ভারত মহাসাগরীয় দ্বীপদেশ মাদাগাস্কারে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় গেজানি। দেশটির জাতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, প্রবল ঘূর্ণিঝড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টিপাত আরও কয়েক ঘণ্টা অব্যাহত থাকতে পারে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা ও বন্যার খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সময় রাত একটার হালনাগাদ বার্তায় মেতেও মাদাগাস্কার সতর্ক করে বলেছে, পূর্ব দিক থেকে পশ্চিমে অগ্রসর হওয়া ঝড়টি দেশের মধ্যাঞ্চলের উঁচু এলাকাগুলোর দিকে এগোচ্ছে। এতে বিস্তৃত বন্যা, আকস্মিক ঢল ও ভূমিধসের উচ্চ ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আনালানজিরোফো, আতসিনানানা, আলাওত্রা মাঙ্গোরো, আনালামাঙ্গা ও বেতসিবোকা অঞ্চলে লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে, যার অর্থ আসন্ন তাৎক্ষণিক বিপদ। পূর্ব উপকূলীয় বন্দরনগর তুয়ামাসিনা থেকে এক বাসিন্দা সংবাদ সংস্থাকে জানান, “সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেছে। ছাদ উড়ে গেছে, ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে আছে, মজবুত বাড়ির দেয়াল পর্যন্ত ভেঙে পড়েছে।” তিনি জানান, ঝড় আঘাত হানার কয়েক ঘণ্টা আগেই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
মাদাগাস্কারের শাসনক্ষমতাসীন কর্নেল মাইকেল রঁদ্রিয়ানিরিনা ঝড় কেটে গেলে তুয়ামাসিনায় যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা যায়। ফ্রান্সের রিইউনিয়ন দ্বীপভিত্তিক ঘূর্ণিঝড় পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, তুয়ামাসিনা বন্দর সরাসরি ঝড়ের সবচেয়ে তীব্র অংশের আঘাতে পড়েছে। উপগ্রহ যুগে অঞ্চলটিতে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড়গুলোর একটি হতে পারে গেজানি; ১৯৯৪ সালের ফেব্রুয়ারির ঘূর্ণিঝড় জেরালদার সঙ্গে এর তুলনা করা হচ্ছে, যে ঝড়ে অন্তত ২০০ জন নিহত ও পাঁচ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
স্থলভাগে প্রবেশের পর গেজানি কিছুটা দুর্বল হয়ে ক্রান্তীয় ঝড়ে রূপ নিলেও মোজাম্বিক চ্যানেল পেরিয়ে আবারও শক্তি সঞ্চয় করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঝড়টি মেইন্তিরানো ও মোরোন্দাভার মধ্যবর্তী এলাকা দিয়ে চ্যানেলে প্রবেশ করতে পারে।
গেজানি আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় ফিতিয়ার মাত্র ১১ দিন পর। গত মাসের শেষদিকে উত্তর-পশ্চিম মাদাগাস্কারে আঘাত হানা ফিতিয়ায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং প্রায় ৩১ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হন বলে জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক দপ্তর জানিয়েছিল। সে সময় প্রায় ১৮ হাজার ৬০০টি ঘরবাড়ি, ৪৯৩টি শ্রেণিকক্ষ ও ২০টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয় এবং ধানের খেতে ব্যাপক ক্ষতি হয়। বন্যার পানি পানীয় জলের উৎস দূষিত করে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়ায়।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় আরও তীব্র হচ্ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও উষ্ণ সমুদ্রজল ভারী বৃষ্টিপাত ডেকে আনায় দ্বীপদেশগুলো বিশেষ ঝুঁকিতে রয়েছে।
















