ইরানের মানবাধিকারকর্মী ও ২০২৩ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী নার্গিস মোহাম্মদিকে নতুন করে সাত বছরের বেশি কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তার আইনজীবী ও তাকে সমর্থনকারী একটি সংগঠনের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
৫৩ বছর বয়সী মোহাম্মদি কারাগারের পরিবেশ ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ না পাওয়ার প্রতিবাদে এক সপ্তাহের অনশন শুরু করেছিলেন, যা রোববার শেষ হয়। নার্গিস ফাউন্ডেশনের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কারাগার থেকে ফোনে আইনজীবী মোস্তাফা নিলিকে তিনি জানিয়েছেন, শনিবার তাকে এই রায়ের কথা জানানো হয়েছে।
আইনজীবী নিলির ভাষ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ‘প্রচারমূলক কার্যক্রমে’ জড়িত থাকার দায়ে আরও দেড় বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তাকে পূর্ব ইরানের দক্ষিণ খোরাসান প্রদেশের খোসফ শহরে দুই বছরের জন্য নির্বাসনে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রায়ে তার বিদেশযাত্রায় দুই বছরের নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে আইনজীবী জানান, এই রায় চূড়ান্ত নয় এবং আপিল করা যাবে। স্বাস্থ্যগত জটিলতার কারণে সাময়িকভাবে জামিনে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ পাওয়ার আশাও তিনি প্রকাশ করেন।
গত ২ ফেব্রুয়ারি কারাবন্দি অবস্থায় অনশন শুরু করেন মোহাম্মদি। তার দাবি ছিল, তাকে আইনজীবী ও পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না এবং কারাগারের অবস্থা অমানবিক।
নার্গিস ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, অনশনের ষষ্ঠ দিনে তার শারীরিক অবস্থা মারাত্মকভাবে অবনতি ঘটে। এ কারণে তিন দিন আগে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসা শেষ হওয়ার আগেই আবার মাশহাদের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়ের একটি নিরাপত্তা কেন্দ্রে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। সংগঠনটির মতে, তার অব্যাহত আটক জীবননাশের ঝুঁকি তৈরি করছে এবং এটি মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘন।
নার্গিস মোহাম্মদি ইরানের দ্বিতীয় নারী, যিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন। এর আগে ২০০৩ সালে এই পুরস্কার পান মানবাধিকারকর্মী শিরিন এবাদি।
তিনি দীর্ঘদিন ধরে নারী অধিকার, মৃত্যুদণ্ডবিরোধী আন্দোলন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে কাজ করে আসছেন। তিনি ডিফেন্ডার্স অব হিউম্যান রাইটস সেন্টারের উপপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
২০২৩ সালে নোবেল কমিটি তাকে নারীর অধিকার ও স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে।
গত বছরের ১২ ডিসেম্বর মাশহাদে আইনজীবী খসরো আলিকর্দির স্মরণসভায় অংশ নেওয়ার সময় বক্তব্য দেওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময় প্রসিকিউশন দাবি করে, তিনি উসকানিমূলক মন্তব্য করেছেন এবং উপস্থিত লোকজনকে নিয়মবহির্ভূত স্লোগান দিতে উৎসাহিত করেছেন, যা জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করেছে।
















