থাইল্যান্ডের সাধারণ নির্বাচনে প্রত্যাশার চেয়ে বড় জয় পেয়েছে ক্ষমতাসীন রক্ষণশীল ভূমজাইথাই পার্টি। প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল বিজয় দাবি করে আগামী দিনগুলোতে জোট সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
থাই গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, সোমবার পর্যন্ত প্রায় ৯৩ শতাংশ ভোট গণনা শেষে ভূমজাইথাই পার্টি ৫০০ আসনের সংসদে অন্তত ১৯৪টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। এই ফলাফলে দলটি প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে অবস্থান করছে।
প্রগতিশীল পিপলস পার্টি দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে, তাদের সম্ভাব্য আসন সংখ্যা ১১৬। কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার দল পিউ থাই তৃতীয় অবস্থানে থেকে পেয়েছে আনুমানিক ৭৬টি আসন।
রোববার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আনুতিন বলেন, ভোটাররা তার দলকে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সমর্থন দিয়েছে। তিনি বলেন, এই আস্থার প্রতিদান দিতে জনগণের কল্যাণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।
জোট সরকার গঠন ও মন্ত্রিসভা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আনুতিন জানান, চূড়ান্ত ফল পরিষ্কার হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি। পাশাপাশি প্রতিটি দলকে নিজেদের ভেতরে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন।
মাত্র একশ দিনেরও কম সময় ক্ষমতায় থাকার পর গত ডিসেম্বর আনুতিন আকস্মিক নির্বাচনের ডাক দেন। কম্বোডিয়ার সঙ্গে তিন সপ্তাহের সীমান্ত সংঘাতের পর দেশে যে জাতীয়তাবাদী আবহ তৈরি হয়, সেটিকে কাজে লাগাতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
নির্বাচনের ফলকে আনুতিন ‘সব থাই জনগণের জয়’ হিসেবে আখ্যা দেন।
এদিকে পিপলস পার্টি আগেই জানিয়ে দিয়েছে, তারা আনুতিন নেতৃত্বাধীন কোনো জোটে যোগ দেবে না। দলটির নেতা নাত্থাফং রুয়েংপানিয়াউত জানিয়েছেন, তারা বিকল্প কোনো জোট সরকার গঠনের চেষ্টাও করবে না।
জানুয়ারির শেষ দিকে করা জরিপে পিপলস পার্টিকে ভূমজাইথাইয়ের চেয়ে এগিয়ে দেখানো হয়েছিল। সে হিসেবে এবারের ফলাফল অনেকের কাছেই চমক হিসেবে এসেছে।
ব্যাংকক থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটারদের মধ্যে সবচেয়ে বড় দুটি চাহিদা ছিল রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। গত তিন বছরের মধ্যে আবার নির্বাচন হওয়ায় অনেকেই মনে করছিলেন, দেশটি অস্থিরতার কিনারায় দাঁড়িয়ে আছে।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও থাইল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরে স্থবিরতায় ভুগছে। আশপাশের দেশগুলো যেখানে পাঁচ থেকে ছয় শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে, সেখানে থাইল্যান্ডের প্রবৃদ্ধি মাত্র দেড় শতাংশের কাছাকাছি। ভোটাররা এই পরিস্থিতি বদলাতে চেয়েছেন বলে বিশ্লেষণে বলা হয়েছে।
ভূমজাইথাই এখন ছোট দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের দিকে নজর দেবে। সম্ভাব্য অংশীদার হিসেবে উপপ্রধানমন্ত্রী থাম্মানাত প্রমপাওয়ের ক্লা থাম পার্টির নাম উঠে এসেছে, যারা প্রায় ৫৮টি আসন পেতে পারে। এই দুই দল একসঙ্গে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ২৫১ আসনের সীমা ছাড়িয়ে যেতে সক্ষম হবে।
এর আগে আনুতিন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, আবার ক্ষমতায় ফিরলে অর্থ, পররাষ্ট্র ও বাণিজ্যমন্ত্রীরা নতুন মন্ত্রিসভায়ও নিজ নিজ দায়িত্বে বহাল থাকবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, শক্ত অবস্থান থেকেই ভূমজাইথাই জোট আলোচনা শুরু করবে এবং ছোট দলগুলোর কাছে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ছাড় দিতে হবে না। ভোটাররা মূলত স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রত্যাশায় এই রায় দিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
এ নির্বাচনের পাশাপাশি ভোটাররা সংবিধান পরিবর্তনের প্রস্তাবের পক্ষেও রায় দিয়েছেন। প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার ২০১৪ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর প্রণীত সংবিধান বাতিল করে নতুন সংবিধান চেয়েছেন। নতুন সংবিধান কার্যকর হতে অন্তত দুই বছর সময় লাগবে এবং আরও দুটি গণভোট প্রয়োজন হবে।
















