উত্তর লেবাননের ত্রিপোলি শহরে পাশাপাশি থাকা দুটি ভবন ধসে অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে তৎপরতা চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
রোববার রাতে লেবাননের সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ইমাদ খরেইশ স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, ধসে এখন পর্যন্ত নয়জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। আহত ছয়জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ধসে পড়া ভবনটি দুটি অংশে বিভক্ত ছিল এবং প্রতিটি অংশে ছয়টি করে অ্যাপার্টমেন্ট ছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, দুর্ঘটনার সময় প্রায় ২২ জন ভবনের ভেতরে অবস্থান করছিলেন।
ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। সিভিল ডিফেন্সের দলগুলোর পাশাপাশি লেবানিজ রেড ক্রস এবং বিভিন্ন জরুরি ও ত্রাণ সংস্থা অভিযানে সহায়তা করছে। আশপাশের বাসিন্দারাও ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের উদ্ধারে অংশ নেন।
ত্রিপোলির মেয়র আবদেল হামিদ কারিমেহ সাংবাদিকদের জানান, অনিরাপদ ভবনের কারণে শহরটিকে দুর্যোগকবলিত এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি বলেন, বছরের পর বছর অবহেলার কারণে ত্রিপোলির হাজারো মানুষ ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছে এবং পরিস্থিতি পৌরসভার সামর্থ্যের বাইরে চলে গেছে।
এদিকে ভবন ধসের আশঙ্কায় আশপাশের আবাসিক ভবনগুলো খালি করে দেওয়া হয়েছে। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনী ও পৌর পুলিশের সহায়তায় এসব এলাকায় বসবাসকারীদের সরিয়ে নেওয়া হয় বলে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জরুরি উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তার জন্য সব সেবা সংস্থাকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি পাশের ভবনগুলো থেকে সরিয়ে নেওয়া বাসিন্দাদের জন্য আশ্রয়ের ব্যবস্থাও করতে বলা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম এক বিবৃতিতে জানান, যেসব ভবন খালি করতে হবে সেসব বাসিন্দাদের জন্য সরকার আবাসন ভাতা দিতে প্রস্তুত। তিনি এ ঘটনাকে দীর্ঘদিনের অবহেলার ফল হিসেবে উল্লেখ করে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাজনৈতিক স্বার্থে এই দুর্যোগকে ব্যবহার না করার আহ্বান জানান।
ঘটনার তদন্তে উত্তরাঞ্চলের সরকারি কৌঁসুলিকে অবিলম্বে তদন্ত শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন বিচারমন্ত্রী আদেল নাসসার। ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত মাসের শেষ দিকেও ত্রিপোলিতে আরেকটি ভবন ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। জানুয়ারিতে উচ্চ ত্রাণ কর্তৃপক্ষের প্রধান জানান, পৌরসভার পরিসংখ্যান অনুযায়ী ত্রিপোলিতে অন্তত ১০৫টি ভবন তাৎক্ষণিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত, যেগুলোর বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় বহু পুরোনো ও পরিত্যক্ত ভবন রয়েছে, যেগুলোর অনেকগুলোই মারাত্মকভাবে জরাজীর্ণ। গৃহযুদ্ধকালীন সময়ে অনুমতি ছাড়াই নির্মিত বহু ভবন এখনও বসবাসের উপযোগী না হলেও সেখানে মানুষ বসবাস করে যাচ্ছে।
















