হাইতির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল প্রায় দুই বছর পর ক্ষমতা হস্তান্তর করেছে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ে ফিলস-এইমের কাছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা সহিংসতা, গ্যাং দখল ও রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এই পরিবর্তন ঘটল, যেখানে সহিংসতায় হাজারো মানুষের প্রাণ গেছে।
নয় সদস্যের অন্তর্বর্তী পরিষদ ও ৫৪ বছর বয়সী ব্যবসায়ী ফিলস-এইমের মধ্যে ক্ষমতা হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয় কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে। হাইতির বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে বিবেচনায় রেখে রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে পরিষদের সভাপতি লরাঁ সাঁ সিয়র প্রধানমন্ত্রী ফিলস-এইমকে উদ্দেশ করে বলেন, এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে তিনি দেশের জন্য যে দায়িত্ব গ্রহণ করছেন, তার গভীরতা তিনি নিশ্চয়ই উপলব্ধি করছেন। এই হস্তান্তরের পর ফিলস-এইমই এখন হাইতির একমাত্র নির্বাহী ক্ষমতাসম্পন্ন রাজনীতিক।
এর আগে জানুয়ারির শেষ দিকে পরিষদের কয়েকজন সদস্য ফিলস-এইমকে অপসারণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সেই পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র চারজন অজ্ঞাত পরিষদ সদস্য ও এক মন্ত্রীর ভিসা বাতিল করে। একই সময়ে, পরিষদ ভেঙে দেওয়ার কয়েক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্র হাইতির উপকূলে একটি যুদ্ধজাহাজ ও দুটি কোস্টগার্ড নৌযান মোতায়েন করে। রাজধানীর আশপাশের প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকা বর্তমানে সশস্ত্র গ্যাংয়ের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ফিলস-এইমের ক্ষমতায় থাকা জরুরি বলে মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, সন্ত্রাসী গ্যাং দমন ও দেশকে স্থিতিশীল করতে ফিলস-এইমের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ।
পরিষদ কেন ফিলস-এইমকে সরাতে চেয়েছিল, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত অপসারণের উদ্যোগ স্থগিত রেখে শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে পরিষদ বিলুপ্ত করা হয়।
ফিলস-এইমের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে এক দশকের মধ্যে প্রথম সাধারণ নির্বাচন আয়োজন। তবে এ কাজ সহজ হবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
২০২৪ সালে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল গঠিত হয় ২০২১ সালে প্রেসিডেন্ট জোভেনেল মোইজ হত্যার পর সৃষ্ট রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলার জন্য। কিন্তু শুরুর কিছুদিনের মধ্যেই পরিষদ অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, সদস্যপদ নিয়ে বিতর্ক এবং দুর্নীতির অভিযোগে জড়িয়ে পড়ে। গ্যাং সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ ও সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে তারা কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়।
গঠনের মাত্র ছয় মাস পরই পরিষদ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী গ্যারি কনিলিকে অপসারণ করে ফিলস-এইমকে নিয়োগ দেয়। নির্বাচনের কাঠামো তৈরির দায়িত্ব থাকলেও পরিষদ একাধিকবার ভোটের সময়সূচি পিছিয়ে দেয়। ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পরিকল্পনা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। পরে আগস্ট ও ডিসেম্বরের সম্ভাব্য সময়সূচির কথা বলা হলেও, চলতি বছরে নির্বাচন ও রান-অফ হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর হাইতিতে গ্যাং সহিংসতায় প্রায় ছয় হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। সহিংসতার কারণে প্রায় ১৪ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ।
নিরাপত্তা পরিস্থিতি সামাল দিতে জাতিসংঘ একটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী অনুমোদন করলেও দুই বছরের বেশি সময়ে নির্ধারিত সেনার এক হাজারেরও কম সদস্য মোতায়েন হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই কেনিয়ার পুলিশ। জাতিসংঘের লক্ষ্য অনুযায়ী, বছরের মাঝামাঝি বা সর্বোচ্চ নভেম্বরের মধ্যে ৫ হাজার ৫০০ সদস্য মোতায়েন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
















