অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্যে আদিবাসী অধিকার আন্দোলনের এক সমাবেশে বোমা নিক্ষেপের ঘটনায় একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ আনা হয়েছে। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় এই ধরনের অপরাধে এটিই প্রথম মামলা।
পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া যৌথ সন্ত্রাস দমন টিম বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানায়, ৩১ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি গত ২৬ জানুয়ারি পার্থ শহরের কেন্দ্রীয় ব্যবসা এলাকায় অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে নিজের ব্যাগ থেকে ঘরে তৈরি একটি বিস্ফোরক বের করে ভিড়ের মধ্যে ছুড়ে দেন।
সমাবেশটি আদিবাসী প্রথম জাতিগোষ্ঠীর অধিকারের পক্ষে আয়োজিত ছিল এবং দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত ‘ইনভেশন ডে’ কর্মসূচির অংশ ছিল। ওই দিনটি অস্ট্রেলিয়া ডে হিসেবে পালিত হলেও আদিবাসী জনগোষ্ঠী এটি তাদের ভূমি দখলের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে প্রতিবাদ জানিয়ে থাকে।
নিক্ষিপ্ত বিস্ফোরকটি বিস্ফোরিত না হওয়ায় কয়েক হাজার অংশগ্রহণকারীর কেউ আহত হননি। তবে কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে বিবেচনা করছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত হলে অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল আইনে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। পুলিশ জানিয়েছে, তাকে আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি পার্থ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হবে এবং ততদিন পর্যন্ত তিনি হেফাজতেই থাকবেন।
পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার প্রিমিয়ার রজার কুক এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, অভিযোগ অনুযায়ী এই হামলাটি আদিবাসী জনগণ ও শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে এবং এটি ঘৃণাভিত্তিক বর্ণবাদী মতাদর্শ থেকে উৎসারিত। তিনি বলেন, পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় এই আইনে এটাই প্রথম অভিযোগ।
অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসী বিষয়ক মন্ত্রী মালারিন্দ্রি ম্যাকার্থি ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, এটি শুধু প্রথম জাতিগোষ্ঠীর ওপর হামলা নয়, বরং সমগ্র অস্ট্রেলীয় সমাজের ওপর আঘাত। তিনি বলেন, আদিবাসীসহ সব অস্ট্রেলীয় নাগরিকের ভয়ভীতি ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করার অধিকার রয়েছে এবং দেশে কোনো ধরনের ঘৃণা, বর্ণবাদ বা সহিংসতার স্থান নেই।
সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ প্রমাণ করতে হলে আইন অনুযায়ী তিনটি বিষয় প্রতিষ্ঠা করতে হয় বলে জানিয়েছে তদন্তকারী দল। প্রথমত, ওই কাজ মানুষের জীবনের জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করেছে কি না বা জননিরাপত্তা বিপন্ন হয়েছে কি না। দ্বিতীয়ত, ওই কাজ রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা আদর্শগত উদ্দেশ্যে করা হয়েছে কি না। তৃতীয়ত, এর মাধ্যমে সরকার বা জনগণের একটি অংশকে ভয় দেখানো বা প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে কি না।
ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসী ও টরেস স্ট্রেইট দ্বীপপুঞ্জের জনগণ এখনও স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কারাবন্দিত্বের ক্ষেত্রে বৈষম্যের মুখোমুখি হচ্ছে এবং বর্ণবাদী সহিংসতার শিকার হওয়ার ইতিহাস বহন করছে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ডিসেম্বরে ১৫ বছর বয়সী আদিবাসী কিশোর ক্যাসিয়াস টারভির মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে বর্ণবাদ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। স্কুল থেকে ফেরার পথে ধাতব দণ্ড দিয়ে হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত ওই কিশোর ১০ দিন পর মারা যায়, যা অস্ট্রেলিয়ায় গভীরভাবে প্রোথিত বর্ণবাদের চিত্র আবারও সামনে নিয়ে আসে।
















