ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এ সপ্তাহের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার আগে কাতার, তুরস্ক ও মিসরের মধ্যস্থতাকারীরা একটি প্রস্তাবিত কাঠামো উভয় পক্ষের কাছে তুলে ধরেছেন। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, শুক্রবার অনুষ্ঠেয় এই বৈঠকে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বড় মাত্রায় সীমিত করার বিষয়টি প্রধান আলোচ্য হবে।
সূত্র অনুযায়ী, প্রস্তাবিত কাঠামোতে বলা হয়েছে, ইরান তিন বছরের জন্য সম্পূর্ণভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখবে। এরপর সমৃদ্ধকরণের মাত্রা দেড় শতাংশের নিচে সীমিত রাখতে হবে। বর্তমানে ইরানের কাছে থাকা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত, যার মধ্যে প্রায় চারশ চল্লিশ কেজি ষাট শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, তা তৃতীয় কোনো দেশে হস্তান্তরের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।
এই কাঠামো কেবল পারমাণবিক কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এতে ইরানের আঞ্চলিক মিত্র ও অরাষ্ট্রীয় গোষ্ঠীগুলোর কাছে অস্ত্র ও প্রযুক্তি সরবরাহ বন্ধ করার শর্তও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি ইরান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রথমে ব্যবহার না করার অঙ্গীকার করবে বলে প্রস্তাব করা হয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা ও পাল্লা সীমিত করার দাবি তুলেছে, প্রস্তাবটি সেখানে পুরোপুরি পৌঁছেনি।
এ ছাড়া ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি অনাক্রমণ চুক্তির ধারণাও মধ্যস্থতাকারীরা সামনে এনেছেন বলে জানা গেছে। তবে ওয়াশিংটন ও তেহরান এই প্রস্তাবে কী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
ইরানি সূত্র জানিয়েছে, আলোচনাটি তুরস্ক নয়, ওমানে অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
এই কূটনৈতিক তৎপরতা এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি আরব সাগরে মোতায়েন করা হয়েছে এবং ইরানে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ দমনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা চরমে। যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যেকোনো চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র ও আঞ্চলিক প্রভাব—এই তিনটি বিষয়ই অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।
এর আগে ইরান পারমাণবিক ইস্যুতে আপসের পথ বেছে নিয়েছিল এবং এক সময় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে সমৃদ্ধকরণ সীমিত করার চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল। তবে আঞ্চলিক মিত্রদের সহায়তা ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করতে তেহরান বরাবরই অনিচ্ছুক।
ইরানের পক্ষ থেকে এখনো বলা হচ্ছে, তারা কেবল পারমাণবিক কর্মসূচি ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়েই আলোচনা করবে। অন্যদিকে, ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও বাহ্যিক সামরিক চাপের কারণে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় শক্ত অবস্থানে রয়েছে।
তবু ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব এখনো কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছেন। অতীতের অভিজ্ঞতা ও গভীর অবিশ্বাসের কারণে এই আলোচনায় বড় ধরনের সমঝোতা আদৌ সম্ভব হবে কি না, সে বিষয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে সংশয় রয়েছে।
এর আগেও দুই দেশ কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছিল, কিন্তু তা ফলপ্রসূ হয়নি। সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি হুমকির মধ্যেও নতুন করে আলোচনার উদ্যোগ অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা কমাতে কতটা ভূমিকা রাখবে, তা এখন দেখার বিষয়।
















