জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীসহ ইসলামী দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচনী জোট গঠন করলেও এতে বাংলাদেশে কোনো ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আশঙ্কা নেই। তাঁর ভাষায়, এই জোট হলে একটি গণতান্ত্রিক সরকারই গঠিত হবে এবং নারী ও সংখ্যালঘুদের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে।
এক সাক্ষাৎকারে নাহিদ ইসলাম জানান, সদ্য গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে এবং জোটের অংশ হিসেবে তারা ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। নতুন দল হওয়ায় কতটি আসনে জয় মিলবে তা বলা কঠিন হলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচন হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবং জোট ভালো ফল করবে।
তিনি বলেন, এই জোট মূলত নির্বাচনী বাস্তবতার কারণে। সংসদে প্রবেশ ও টিকে থাকার জন্য এমন সমঝোতা প্রয়োজন। তবে কিছু মৌলিক বিষয়ে জোটের মধ্যে মিল রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জুলাই ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের পর প্রস্তাবিত সংস্কার বাস্তবায়ন, দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান, সুশাসন এবং সার্বভৌম ও মর্যাদাপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি।
নাহিদ ইসলামের মতে, যদি জোট সরকার গঠন করে, তবে তা কোনো ধর্মীয় শাসনে পরিণত হবে না। জামায়াত ইতোমধ্যে জানিয়েছে যে তারা উদার গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যেই থাকবে। নারী ও সংখ্যালঘুদের প্রশ্নে আপস করা হবে না বলেও তিনি জানান।
শাসন পরিচালনার অভিজ্ঞতা না থাকার সমালোচনার জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশের মানুষ নতুন ও তরুণ নেতৃত্ব চায়। অতীতে অভিজ্ঞ বলে পরিচিত দলগুলো ভালো শাসন দিতে পারেনি। তাই জনগণ বিকল্প কিছু দেখতে আগ্রহী।
সংখ্যালঘু ও নারীর অধিকার নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে তিনি বলেন, এখনো জোটের চূড়ান্ত রূপরেখা হয়নি। প্রয়োজন হলে নির্বাচনী ইশতেহারে এসব বিষয় স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত হবে। জামায়াত আগের অবস্থান থেকে অনেকটাই সরে এসে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির কথা বলছে। তবে নারীর অধিকার বা সংখ্যালঘু প্রশ্নে যদি জাতীয় নাগরিক পার্টির মৌলিক অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে জোট টিকবে না।
তিনি জানান, ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। তখনই তারা বৃহত্তর জোটের প্রয়োজন অনুভব করেন। তাঁর দাবি, কিছু প্রভাবশালী শক্তি জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে সহিংসতা চালাচ্ছে, যা মোকাবিলায় ঐক্য জরুরি।
দলের ভেতরে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মতভেদ ছিল স্বীকার করে নাহিদ ইসলাম বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য জোটের পক্ষে ছিলেন। কিছু সদস্য নীতিগত কারণে দল ছেড়েছেন, যা তারা সম্মান করেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের বিষয়ে তিনি বলেন, সংস্কার প্রশ্নে গণভোট উদ্যোগ একটি বড় অর্জন। তবে আইনশৃঙ্খলা ও জনআকাঙ্ক্ষা ব্যবস্থাপনায় সরকার ব্যর্থ হয়েছে। তবুও সংকটকালে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি দেশ কৃতজ্ঞ থাকবে বলে তিনি মনে করেন।
ভবিষ্যতে যদি বিএনপি সরকার গঠন করে, সে ক্ষেত্রে জাতীয় নাগরিক পার্টি জনগণের রায় মেনে নেবে বলে জানান তিনি। সংস্কার বাস্তবায়ন হলে স্থিতিশীলতার স্বার্থে সহযোগিতার কথাও বলেন।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চায়। তবে সীমান্ত হত্যাকাণ্ড, পানিবণ্টন সমস্যা ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার দাবি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে। এসব বিষয়ে অগ্রগতি না হলে দুই দেশের সম্পর্ক জটিল হয়ে উঠতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
















