যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনা পুনরায় শুরু করতে কাঠামোগত অগ্রগতির আশা প্রকাশ করেছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে আঞ্চলিক কয়েকটি দেশের প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই আলোচনার একটি রূপরেখা চূড়ান্ত হতে পারে।
সোমবার ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ বার্তাবাহক হিসেবে কাজ করছে। একই সঙ্গে অপ্রমাণিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দেশটির প্রেসিডেন্ট পারমাণবিক আলোচনা পুনরুজ্জীবনের নির্দেশ দিয়েছেন।
এই ঘোষণার প্রেক্ষাপটে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা কিছুটা কমেছে বলে মনে করা হচ্ছে। বার্তা সংস্থার খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা হতে পারে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অংশ নিতে পারেন বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি।
আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতার, তুরস্ক, মিসর ও ওমানের কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে এই সম্ভাব্য বৈঠকের পথ তৈরি হয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানে এসব দেশ মধ্যস্থতার ভূমিকা রাখছে।
গত জানুয়ারিতে ইরানে ব্যাপক বিক্ষোভ দমনের পর যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজাহাজ পাঠায়। সে সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কঠোর অবস্থান নিলেও পরে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানান। জুন মাসে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনা বন্ধ হয়ে যায়।
রোববার ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে কথা বলছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রও নিশ্চিত করেছেন যে পরোক্ষ আলোচনা চলছে। তার ভাষায়, আঞ্চলিক দেশগুলো বার্তা বিনিময়ে সহায়তা করছে এবং কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ নিয়ে আলোচনা এগোচ্ছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৌদি আরব, মিসর ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে ফোনে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন। একই সময়ে একটি সংবাদ সংস্থা দাবি করেছে, প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান পারমাণবিক আলোচনা পুনরায় শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূতের সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক হতে পারে বলে ইরানি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে তেহরান ও ওয়াশিংটন কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠকের সময়সূচি নিশ্চিত করেনি। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিশেষ দূত ইসরায়েলে গিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে বৈঠক করবেন।
এই আলোচনা সম্ভাবনার মধ্যেই ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ভারত মহাসাগরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন রয়েছে, যা প্রয়োজনে হামলায় সহায়তা করতে পারে।
জানুয়ারির বিক্ষোভের পর ট্রাম্প ইরানকে হুমকি দিলেও পরে তার অবস্থান পারমাণবিক চুক্তির দাবিতে রূপ নেয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের আশঙ্কা, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। তবে তেহরান বরাবরই বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।
খবরে বলা হয়েছে, আলোচনা পুনরায় শুরু করতে যুক্তরাষ্ট্র কিছু শর্ত দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা এবং আঞ্চলিক মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার। অতীতে ইরান পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনা করলেও ক্ষেপণাস্ত্র ও আঞ্চলিক প্রভাবকে আলোচনার বাইরে রেখেছে।
বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট ও নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তির প্রয়োজনীয়তার কারণে ইরান অবস্থান বদলাবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। জুন মাসে ওমানে আলোচনা শুরু হলেও ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর তা স্থবির হয়ে পড়ে।
রোববার ট্রাম্প বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গুরুত্বের সঙ্গে কথা বলছে, তবে একই সঙ্গে শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের কথাও উল্লেখ করেন। অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা সতর্ক করে বলেছেন, দেশটির ওপর হামলা হলে তা আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।
















