দক্ষিণ চীন সাগরে টহলরত অস্ট্রেলীয় বিমানটির কাছাকাছি বিপজ্জনকভাবে ফ্লেয়ার ছোড়ার অভিযোগ এনেছে অস্ট্রেলিয়া, চীনের একটি সামরিক বিমানের বিরুদ্ধে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সোমবার এক বিবৃতিতে জানায়, ঘটনাটি রবিবার ঘটে এবং এই ‘অসুরক্ষিত ও অপেশাদার’ আচরণের বিষয়ে ক্যানবেরা বেইজিংয়ের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বেগ জানিয়েছে।
অস্ট্রেলীয় পি–৮এ টহল বিমানে কোনো ক্ষতি হয়নি এবং এর ক্রুরাও অক্ষত ছিলেন বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
অন্যদিকে, চীনা সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অস্ট্রেলীয় বিমানটি চীনের আকাশসীমায় ‘অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ’ করেছিল, তাই সেটিকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।
চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় থিয়েটার কমান্ড এয়ার ফোর্সের মুখপাত্র সিনিয়র কর্নেল লি জিয়ানজিয়ান বলেন, “অস্ট্রেলীয় বিমানের কার্যক্রম চীনের সার্বভৌমত্বের ওপর গুরুতর আঘাত হেনেছে। আমরা ক্যানবেরাকে অবিলম্বে এমন উসকানিমূলক কার্যক্রম বন্ধ করার আহ্বান জানাই।”
অস্ট্রেলিয়ান প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, তারা আশা করে সব দেশই—চীনসহ—আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে তাদের সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
এই ঘটনা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ চীন সাগরে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে ঘটতে থাকা একাধিক উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনার সর্বশেষ উদাহরণ। এই অঞ্চলের দ্বীপ ও সমুদ্রপথে চীনের ব্যাপক দাবির সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর সীমান্ত দাবি ওভারল্যাপ করছে।
রবিবারের এই ঘটনার সময় অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের উদ্দেশে ওয়াশিংটনের পথে ছিলেন। বৈঠকে আউকাস (Aukus) নামে বহুজাতিক সাবমেরিন প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া অংশীদার।
এটি প্রথম নয়, এর আগেও দক্ষিণ চীন সাগর এলাকায় একই ধরনের অভিযোগ তুলেছিল অস্ট্রেলিয়া। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও চীনের এক যুদ্ধবিমান অস্ট্রেলীয় বিমানের কাছাকাছি ফ্লেয়ার ছেড়েছিল বলে অভিযোগ তোলে ক্যানবেরা। তখন বেইজিং জানিয়েছিল, অস্ট্রেলীয় বিমানটি ইচ্ছাকৃতভাবে চীনের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল এবং তাদের প্রতিক্রিয়া ছিল ‘আইনসঙ্গত ও সংযত’।
অস্ট্রেলিয়া নিজে দক্ষিণ চীন সাগরের কোনো অংশের মালিকানা দাবি না করলেও যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সঙ্গে অবস্থান নিয়েছে, যারা বলে আসছে—চীনের সমুদ্র দাবির কোনো বৈধ ভিত্তি নেই।
গত বছরের মে মাসে অস্ট্রেলিয়া অভিযোগ করে, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের মিশনে অংশ নেওয়া তাদের নৌবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারের কাছাকাছি ফ্লেয়ার ছুড়ে বিপদ সৃষ্টি করেছিল চীনের একটি যুদ্ধবিমান।
এছাড়া ২০২৩ সালের নভেম্বরে ক্যানবেরা অভিযোগ করে, জাপানের উপকূলবর্তী আন্তর্জাতিক জলসীমায় চীনের নৌবাহিনী সোনার পালস ব্যবহার করে অস্ট্রেলীয় ডুবুরিদের আহত করেছে।
















