যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রিত শহরগুলোতে চলমান বিক্ষোভে ফেডারেল বাহিনীকে হস্তক্ষেপ না করার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ যদি ফেডারেল সহায়তা চায়, সেক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার দেওয়া এক ঘোষণায় ট্রাম্প জানান, স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগকে স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে ডেমোক্র্যাট পরিচালিত শহরগুলোতে বিক্ষোভের ঘটনায় কোনোভাবেই অংশ নেওয়া হবে না, যতক্ষণ না সেখানকার কর্তৃপক্ষ ফেডারেল সহায়তা চায়। তবে ফেডারেল ভবন ও স্থাপনা রক্ষায় অভিবাসন ও সীমান্ত বাহিনী কঠোর ভূমিকা পালন করবে।
এই ঘোষণা আসে এমন এক সময়, যখন মিনেসোটার মিনিয়াপোলিস শহরে বড় পরিসরে ফেডারেল অভিবাসন বাহিনী মোতায়েনকে কেন্দ্র করে টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভ চলছে। ওই অভিযানের সময় ফেডারেল এজেন্টদের হাতে দুইজন মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনাও উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প বলেন, ফেডারেল কর্মকর্তাদের ওপর হামলা, গাড়িতে পাথর বা ইট নিক্ষেপ কিংবা সরকারি স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতি কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। এমন ঘটনার ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিসে পরিচালিত এই অভিযানকে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অভিবাসন প্রয়োগ কার্যক্রম হিসেবে উল্লেখ করেছে। প্রায় তিন হাজার ফেডারেল এজেন্ট সেখানে মোতায়েন করা হয়। গত নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানের পেছনে কিছু অভিবাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগের কথা বলা হয়েছে।
এই পরিস্থিতি স্থানীয় ও রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের তীব্র বিরোধ তৈরি করেছে। প্রতিদিনই বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে জানুয়ারির শুরুতে দুইজন নিহত হওয়ার ঘটনায় সরকারি বক্তব্যকে প্রত্যক্ষদর্শী ভিডিও ও সাক্ষ্য প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
শুক্রবার মিনিয়াপোলিসসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে মিনেসোটা থেকে ফেডারেল অভিবাসন বাহিনী প্রত্যাহারের দাবি জানান। অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলসহ অনেকে অভিযোগ করেছেন, এই অভিযান সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করছে। তবে একটি ফেডারেল আদালত মামলার শুনানি চলাকালে অভিযান বন্ধে রাজি হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সর্বশেষ নির্দেশে হোয়াইট হাউসের অবস্থানে কিছুটা নমনীয়তার ইঙ্গিত মিলছে। মিনিয়াপোলিসে অভিযান পরিচালনাকারী শীর্ষ সীমান্ত কর্মকর্তাকে সরিয়ে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে কৌশল পরিবর্তনের কথাও বলা হয়েছে। ভবিষ্যতে ব্যাপক ধরপাকড়ের বদলে লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান চালানো এবং স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা পেলে এজেন্ট সংখ্যা কমানোর ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
তবে বিক্ষোভকারীরা বলছেন, ফেডারেল বাহিনী পুরোপুরি প্রত্যাহার না করা হলে আন্দোলন থামবে না। ফলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ার আভাস মিললেও উত্তেজনা পুরোপুরি কাটছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
















