প্রয়াত অর্থলগ্নিকারী ও যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী ও ধনকুবের কয়েকজন ব্যক্তির সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সম্প্রতি প্রকাশিত তদন্তসংক্রান্ত বিপুল নথিতে বিল গেটস, ইলন মাস্ক ও হাওয়ার্ড লুটনিকের সঙ্গে এপস্টেইনের যোগাযোগ আগের ধারণার চেয়ে বেশি বিস্তৃত ছিল বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
শুক্রবার প্রকাশিত এসব নথি আসে এমন এক সময়, যখন আইন অনুযায়ী গত ডিসেম্বরের মধ্যেই এপস্টেইন সংক্রান্ত সব নথি প্রকাশের সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা ছিল। প্রায় ত্রিশ লাখ পৃষ্ঠার এই নথিপত্র যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাধর ও ধনাঢ্য ব্যক্তিদের সঙ্গে এপস্টেইনের সম্পর্ককে নতুন করে আলোয় এনেছে।
নথিতে থাকা একটি খসড়া ইমেইলে এপস্টেইন দাবি করেন, বিল গেটস বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িত ছিলেন এবং কিছু ব্যক্তিগত সমস্যার সমাধানে তার সহায়তা চেয়েছিলেন। তবে ওই ইমেইলটি আদৌ পাঠানো হয়েছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়। গেটস ফাউন্ডেশন এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও হাস্যকর বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
এদিকে প্রকাশিত ইমেইল থেকে জানা যায়, দুই হাজার বারো থেকে দুই হাজার তেরো সালের মধ্যে ইলন মাস্ক এপস্টেইনের ক্যারিবীয় দ্বীপে যাওয়ার বিষয়ে একাধিকবার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। একটি বার্তায় তিনি দ্বীপটিতে সবচেয়ে উচ্ছৃঙ্খল আয়োজন কবে হবে, তা জানতে চান। যদিও নথিতে মাস্ক শেষ পর্যন্ত সেখানে গিয়েছিলেন এমন প্রমাণ নেই, তবে এতে এপস্টেইনের আমন্ত্রণ তিনি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন—মাস্কের এমন আগের দাবিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় মাস্ক বলেন, তার সঙ্গে এপস্টেইনের খুব সীমিত যোগাযোগ ছিল এবং তিনি কখনো দ্বীপে যাওয়ার বা ব্যক্তিগত বিমানে ওঠার আমন্ত্রণ গ্রহণ করেননি। তিনি দাবি করেন, নথি প্রকাশের পক্ষে তিনি বরাবরই জোরালো অবস্থান নিয়েছিলেন।
নথিতে আরও উঠে এসেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক দুই হাজার বারো সালের ডিসেম্বরে এপস্টেইনের দ্বীপে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন এবং সে সময় তাদের সাক্ষাৎ হয়েছিল বলে ইমেইল যোগাযোগে ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তবে লুটনিক আগেই দাবি করেছিলেন, তিনি বহু বছর আগে এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, লুটনিকের সঙ্গে এপস্টেইনের যোগাযোগ ছিল সীমিত এবং তিনি কখনো কোনো অনিয়মের অভিযোগে অভিযুক্ত হননি।
এই নথি প্রকাশের পরও এপস্টেইনের নির্যাতনের শিকার একদল ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষ্য, অনেক অভিযুক্ত ব্যক্তি এখনো আড়ালে থেকে সুরক্ষিত রয়েছেন। উনিশজন ভুক্তভোগীর এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, নথিতে এখনও তাদের ব্যক্তিগত তথ্য রয়ে গেছে, অথচ অভিযুক্তদের নাম পুরোপুরি প্রকাশ করা হয়নি। তারা সব নথি সম্পূর্ণভাবে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন এবং বিষয়টি নিয়ে কংগ্রেসে সরাসরি ব্যাখ্যা চেয়েছেন।
এর আগে গত নভেম্বর মাসে একটি স্বচ্ছতা আইন কার্যকর হয়, যার মাধ্যমে বিচার বিভাগের কাছে থাকা সব এপস্টেইন সংক্রান্ত নথি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়। বিচার বিভাগের উপপ্রধান জানান, সাম্প্রতিক নথি প্রকাশ একটি দীর্ঘ যাচাই ও পর্যালোচনা প্রক্রিয়ার শেষ ধাপ। তিনি বলেন, বিলম্বের কারণ ছিল বিপুল সংখ্যক ভুক্তভোগীর পরিচয় সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা।
















