মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবার ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে প্রায় সবসময়ই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন। তবে অনেক ক্ষেত্রেই তার পাশে দেখা যায়নি স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পকে। এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার দাবি নিয়ে মুক্তি পেয়েছে নতুন তথ্যচিত্র মেলানিয়া টোয়েন্টি ডেজ টু হিস্ট্রি।
ডকুমেন্টারিটি জানুয়ারিতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শপথ অনুষ্ঠানের আগের কুড়ি দিনের ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরার প্রতিশ্রুতি দেয়। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে শুক্রবার সিনেমা হলে প্রদর্শন শুরু হলেও মুক্তির সময় ও অর্থায়ন নিয়ে এটি বিতর্কের মুখে পড়ে। মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে দুইজন নিহত হওয়ার ঘটনাকে ঘিরে দেশজুড়ে বিক্ষোভ চলার সময় এই ডকুমেন্টারি মুক্তি পাওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়ে প্রশাসন।
চলচ্চিত্রটিতে মেলানিয়া ট্রাম্পের দৈনন্দিন জীবনের দৃশ্য থাকলেও, যারা তার ব্যক্তিগত সময় বা রাজনৈতিক ভূমিকা সম্পর্কে গভীর ধারণা পেতে চেয়েছিলেন, তারা অনেকটাই নিরাশ হতে পারেন। বেশিরভাগ সময় তাকে দেখা যায় এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাতায়াত করতে, আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে কিংবা পোশাক ও টেবিলসজ্জা নিয়ে বৈঠকে ব্যস্ত থাকতে।
তবে কিছু ক্ষণিক ব্যক্তিগত মুহূর্তে তার চরিত্রের আভাস মেলে। শুরুতেই তিনি বলেন, সাধারণ নাগরিক থেকে ফার্স্ট লেডি হয়ে ওঠার নিজের যাত্রা তিনি তুলে ধরতে চান। ছবির নির্মাণ নিয়ে ওঠা বিতর্কও সংক্ষেপে উঠে আসে, যেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্ন সামলাতে দেখা যায় তার কর্মীদের।
ডকুমেন্টারিটির সহপ্রযোজক মেলানিয়া নিজেই, পরিচালনায় আছেন ব্রেট র্যাটনার। নিউইয়র্কের ট্রাম্প টাওয়ার ও ফ্লোরিডার মার-আ-লাগোতেই ছবির বড় অংশ ধারণ করা হয়েছে। সেখানে তার স্টাইলিস্ট, অনুষ্ঠান পরিকল্পনাকারী ও নকশাবিদদের সঙ্গে কাজের দৃশ্য দেখা যায়।
চলচ্চিত্রে তার প্রিয় সংগীতের কথাও উঠে আসে। গাড়িতে যেতে যেতে তিনি জানান, মাইকেল জ্যাকসনের গান তার সবচেয়ে পছন্দ, বিশেষ করে বিলি জিন। এক পর্যায়ে সেই গানের সঙ্গে গলা মেলাতেও দেখা যায় তাকে।
সবচেয়ে আবেগঘন অংশটি জুড়ে আছে তার মায়ের মৃত্যু নিয়ে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে তার মা আমালিয়া নাভসের মৃত্যু হয়। মেলানিয়া জানান, এই শোক তাকে গভীরভাবে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নিতে গিয়ে তিনি বলেন, সেখানে উপস্থিত থাকলেও তার মনে থাকবে তার প্রয়াত মায়ের কথাই। তিনি তার মাকে নিজের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান বন্ধন বলে উল্লেখ করেন।
ডকুমেন্টারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খুব সীমিতভাবে দেখা যায়। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে উপস্থিত হয়ে তিনি স্ত্রীকে প্রশংসা করেন। তবে মেলানিয়ার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক হিসেবে উঠে আসে তার দীর্ঘদিনের স্টাইলিস্ট ও ফ্রান্সের ফার্স্ট লেডির সঙ্গে বন্ধুত্ব।
এর বিপরীতে, ট্রাম্প পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের প্রায় দেখা যায় না। শপথ অনুষ্ঠানের ভিড়ের বাইরে তাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। ছেলে ব্যারন সম্পর্কে মেলানিয়া বলেন, সে যেন নিজের মতো করে জীবন কাটাতে পারে, সেটাই তিনি চান।
ডকুমেন্টারিতে ফার্স্ট লেডির ভূমিকা নিয়ে তার দ্বিধা ও অস্বস্তির কথাও শোনা যায়। তিনি বলেন, এই ভূমিকা অনেক বেশি নিয়মবদ্ধ এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতা কম। মানসিকভাবে শক্ত থাকতে হয় তাকে। একই সঙ্গে স্ত্রী, মা, কন্যা ও বন্ধু হিসেবে দায়িত্ব সামলানোর কথাও উল্লেখ করেন।
রাজনৈতিক বিষয়ে নিজের অবস্থান প্রকাশে তিনি সচেতনভাবে নীরব থাকেন। খবর দেখে বিভিন্ন মানবিক বিপর্যয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেও নির্দিষ্ট কোনো নীতিগত মতামত দেন না। এক পর্যায়ে গাজা সংঘাতের প্রেক্ষাপটে অপহৃত এক ইসরায়েলি নারীর সঙ্গে সাক্ষাতে তাকে আবেগাপ্লুত হতে দেখা যায় এবং তিনি আশ্বাস দেন, প্রয়োজন হলে নিজের প্রভাব ব্যবহার করবেন।
ডকুমেন্টারিটি রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। প্রদর্শনীতে ট্রাম্প সমর্থকদের উচ্ছ্বাস দেখা গেলেও সমালোচকরা একে সময় ও বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন বলে আখ্যা দিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে আগেই নেতিবাচক রেটিং দেওয়া ও বিজ্ঞাপন ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।
অ্যামাজনের অর্থায়নে নির্মিত এই তথ্যচিত্রের ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে পর্দায় মেলানিয়া ট্রাম্পকে রাজনীতির কোলাহল থেকে দূরে থেকে পোশাক, আয়োজন ও ব্যক্তিগত শক্তি সঞ্চয়ের দিকেই মনোযোগী হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
চলচ্চিত্রের শেষদিকে তিনি বলেন, ফার্স্ট লেডি হওয়া তার কাছে ব্যক্তিগত বিকাশের একটি প্রক্রিয়া, যেখানে প্রতিদিন আগের দিনের চেয়ে আরও শক্ত হওয়াই আসল মর্যাদা।
















