আদালতের রায়ের পর পানামা খালের দুই প্রান্তের দুটি বন্দর সাময়িকভাবে পরিচালনার দায়িত্ব নিচ্ছে ডেনমার্কের শিপিং প্রতিষ্ঠান মেয়ার্স্ক। হংকংভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে করা চুক্তিকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করার একদিন পর শুক্রবার এই পরিবর্তনের ঘোষণা দেয় পানামা সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ।
পানামার সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়ে জানায়, হংকংভিত্তিক সিকে হাচিসনের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে করা বন্দর পরিচালনা চুক্তিতে ওই কোম্পানির প্রতি অসামঞ্জস্যপূর্ণ পক্ষপাত ছিল। এর ফলে বালবোয়া ও ক্রিস্তোবাল বন্দরের চুক্তি বাতিল হয়।
পানামা সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ জানায়, মেয়ার্স্ক গ্রুপের অংশ এপিএম টার্মিনালস এখন থেকে এই দুটি বন্দরের অস্থায়ী প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। ১৯৯৭ সাল থেকে সিকে হাচিসন হোল্ডিংসের সহযোগী প্রতিষ্ঠান পানামা পোর্টস কোম্পানি এই বন্দরগুলো পরিচালনা করে আসছিল। সর্বশেষ ২০২১ সালে তাদের চুক্তি ২৫ বছরের জন্য নবায়ন করা হয়েছিল।
এই আদালতের রায় আসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একাধিক বক্তব্যের পর, যেখানে তিনি দাবি করেছিলেন যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পানামা খাল কার্যত চীনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে এই জলপথের দখল নিতে চাইতে পারে।
পানামা খাল বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের কনটেইনার পরিবহনের প্রায় ৪০ শতাংশ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রায় ৫ শতাংশ এই খালের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। ১৯৯৯ সাল থেকে খালটি পানামার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এর আগে ১৯০৪ থেকে ১৯১৪ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে খালটি নির্মিত হয় এবং দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রই এর নিয়ন্ত্রণে ছিল।
এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ওয়াশিংটন। তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, চীনা কোম্পানিগুলোর বৈধ অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, পানামা পোর্টস কোম্পানি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আদালতের রায়টির কোনো আইনগত ভিত্তি নেই এবং এটি তাদের কার্যক্রমের ওপর নির্ভরশীল হাজারো পানামানীয় পরিবারের কল্যাণ ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি সৃষ্টি করবে।
পানামা সরকার বরাবরই দাবি করে আসছে, পানামা খাল কোনোভাবেই চীনের নিয়ন্ত্রণে নেই। খালটি মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হয়, তবে এর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি পানামার হাতেই রয়েছে।
















