গুজব-অপতথ্য ও এআই ডিপফেকের ঝুঁকিতে প্রচারণা, ২৪ ঘণ্টা নজরদারিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, অপতথ্য ও এআই-নির্মিত কনটেন্ট ছড়িয়ে সাইবার সন্ত্রাস বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সার্বক্ষণিক নজরদারি জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
জাতীয় নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত প্রার্থীদের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, অপতথ্য ও আক্রমণাত্মক পোস্ট নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। প্রকাশ্যে হুমকি, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য এবং এআই-নির্মিত ছবি-ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। নির্বাচন ঘিরে এসব সাইবার তৎপরতা ঠেকাতে সার্বক্ষণিক নজরদারি জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সম্প্রতি শেরপুরের একটি সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক পোস্ট ভাইরাল হয়। একটি আইডি থেকে ছড়ানো পোস্টে প্রকাশ্যে সহিংসতার আহ্বান জানানো হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, ওই নামে প্রকৃত কোনো অ্যাকাউন্ট খুঁজে পাওয়া যায়নি। একইভাবে মূলধারার একটি পত্রিকার ডিজাইন নকল করে ভুয়া ফটোকার্ড ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে, যা পরে যাচাই-বাছাইয়ে মিথ্যা প্রমাণিত হয়।
ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমার স্ক্যানার-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারির প্রথম ২৭ দিনে অন্তত ৩৯৩টি ভুল তথ্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়েছে। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্বাচন ঘিরে ৩০৯টি অপতথ্য শনাক্ত করা হয়। এক বছরে রাজনীতি সংশ্লিষ্ট মোট ২ হাজার ২৮১টি অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে, যা অন্যান্য সব ক্যাটাগরির চেয়ে বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই-ডিপফেকের ব্যবহার গত বছরে ৪০৯ শতাংশ বেড়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে।
নির্বাচনকে সামনে রেখে গুজব ও অপপ্রচার ঠেকাতে কাজ করছে নির্বাচন কমিশন-এর একটি বিশেষ মিসইনফরমেশন প্রতিরোধ সেল। এ সেলের সঙ্গে সমন্বয় করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিল, বিটিআরসি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে কাজ করছে।
সাইবার মাধ্যমে ছড়ানো ভুয়া ভিডিও, অডিও ও ছবি শনাক্তে সক্রিয় রয়েছে সিআইডি-র সাইবার ইউনিট। সংস্থাটি জানিয়েছে, নির্বাচন ঘিরে সার্বক্ষণিক মনিটরিং বাড়ানো হয়েছে এবং বিশেষ টিম ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে। ডিবির সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড সাপোর্ট সেন্টারও নিয়মিত সাইবার প্যাট্রলিং চালাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, Facebook ও YouTube-এর মতো প্ল্যাটফর্মে সংঘবদ্ধভাবে অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে, যা সাধারণ ভোটারদের বিভ্রান্ত করছে। সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে গুজবকারীদের দৌরাত্ম্য কমবে।
সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসবে, ততই বাড়বে অপতথ্য ও সাইবার আক্রমণের প্রবণতা। ফলে দায়িত্বশীল আচরণ ও তথ্য যাচাই ছাড়া কোনো কনটেন্ট শেয়ার না করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
















