ত্রয়োদশ নির্বাচনকে ঘিরে টার্গেট কিলিং ও গুপ্তহত্যার শঙ্কা; ১৮ প্রার্থীকে বিশেষ প্রটোকল
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে গুপ্তহত্যা ও টার্গেট কিলিংয়ের আশঙ্কা করছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। এই শঙ্কা থেকে সারা দেশের শীর্ষ শতাধিক পেশাদার কিলার ও শুটারের তালিকা তৈরি করে তাদের ওপর কঠোর নজরদারি শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি হত্যার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নড়েচড়ে বসেছে। ইতিমধ্যে পুলিশ সদরদপ্তর থেকে তালিকাভুক্ত এসব অপরাধীদের অবস্থান শনাক্ত ও গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য মাঠ পর্যায়ের ইউনিটগুলোকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
৩১ জানুয়ারি ২০২৬-এর এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকার ২০টি আসনসহ দেশের স্পর্শকাতর জেলা যেমন—ফরিদপুর, খুলনা, বাগেরহাট, শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জকে নিরাপত্তার তালিকায় উচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গোয়েন্দাদের মতে, জেল থেকে পালানো বন্দিদের ধরতে না পারা এবং শীর্ষ সন্ত্রাসীদের জামিনে মুক্তি পাওয়ার বিষয়টি এবারের নির্বাচনে বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করেছে। এছাড়া লুণ্ঠিত এক হাজারের বেশি অস্ত্র এখনও উদ্ধার না হওয়ায় টার্গেট কিলিংয়ের শঙ্কা বাড়ছে। নির্বাচনকে ঘিরে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্র প্রবেশের তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি ও কোস্টগার্ডকেও সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অন্তত ১৮ জন হেভিওয়েট প্রার্থীকে গানম্যান ও পুলিশ প্রটোকলের বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপি ও জামায়াতের দুই শীর্ষ নেতার পাশাপাশি এনসিপি’র নাহিদ ইসলাম ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারার নাম উল্লেখযোগ্য। র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এমজেডএম ইন্তেখাব চৌধুরী জানিয়েছেন, সম্ভাব্য শুটারদের আর্থিক লেনদেন ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে তাদের যোগাযোগ নিবিড়ভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে। প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এই নির্বাচনে নিরাপত্তার দায়িত্বে মোতায়েন থাকবেন।
















