পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে রাজনীতি করছি; ঢাকার গাড়িটির বয়সও ২০ বছর: ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপি মহাসচিব
রাজনীতিকে ব্যবসা বা আয়ের উৎস হিসেবে ব্যবহার করার প্রচলিত সংস্কৃতির কড়া সমালোচনা করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এক টাকাও অবৈধ আয় করেননি, বরং রাজনীতির খরচ মেটাতে পৈতৃক জমি ও বাড়ি বিক্রি করতে হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় এক নির্বাচনী জনসভায় আবেগঘন বক্তব্যে তিনি নিজের ব্যক্তিগত জীবনের সততা ও কৃচ্ছ্রসাধনের চিত্র তুলে ধরেন। মির্জা ফখরুল জানান, ঢাকায় তিনি যে গাড়িটি ব্যবহার করেন সেটি ২০ বছরের পুরনো এবং যাপনের জন্য তিনি কারো দয়ার ওপর নির্ভরশীল নন। পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীর কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, যারা স্বাধীনতার বিরোধিতা করে ক্ষমা চায়নি, তারা দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না। আসন্ন নির্বাচনে সৎ ও দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব বেছে নিতে তিনি ভোটারদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
আওয়ামী শাসনামলে ১১৭টি মামলার শিকার হওয়া এই বর্ষীয়ান নেতা জানান, শত নির্যাতন ও হয়রানির মাঝেও তিনি জনগণের সংশ্রব ত্যাগ করেননি এবং পরিবর্তনের লক্ষ্যে রাজপথে অবিচল থেকেছেন।
সততা ও ব্যক্তিগত ত্যাগের খতিয়ান
নিজের রাজনৈতিক জীবনের স্বচ্ছতা দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন:
- সম্পত্তি বিক্রয়: বাবা মির্জা রুহুল আমিনের রেখে যাওয়া জমির বড় অংশই রাজনীতির পেছনে ব্যয় হয়েছে। এমনকি বসতবাড়ির সামনের প্লটটিও এখন আর নিজের মালিকানায় নেই।
- পরিবারের সংগ্রাম: নিজের আয়ের অভাব থাকলেও স্ত্রী ও সন্তানদের কঠোর পরিশ্রমে পরিবার চলেছে। তিনি কখনোই ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যক্তিগত সম্পদ গড়েননি।
- জীবনযাপন: “ঢাকায় আমার যে গাড়িটি আছে, সেটির বয়স ২০ বছর। নতুন গাড়ি কেনার সুযোগ বা সামর্থ্য আমার হয়নি।”
জামায়াতের কঠোর সমালোচনা ও ইতিহাস
নির্বাচনী ময়দানে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিএনপি মহাসচিব বলেন:
১. ক্ষমা না চাওয়া: যারা একাত্তরের ভূমিকার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চায়নি, তারা রাষ্ট্র পরিচালনার যোগ্য হতে পারে না।
২. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: তিনি দাবি করেন, জামায়াত শুধু ১৯৭১ নয়, ১৯৪৭ সালেও পাকিস্তানের সৃষ্টির বিরোধিতা করেছিল। যারা বাংলাদেশের মূল রাষ্ট্রচিন্তায় বিশ্বাসী নয়, তাদের হাতে জনগণের ভাগ্য নিরাপদ নয়।
উন্নয়ন ও সংখ্যালঘুর নিরাপত্তা
নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়নে একাধিক প্রতিশ্রুতি দেন ৭৯ বছর বয়সী এই নেতা:
- অবকাঠামো: ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর সচল করা এবং একটি আধুনিক মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন।
- সংখ্যালঘু সুরক্ষা: হিন্দু সম্প্রদায়সহ সকল সংখ্যালঘু নাগরিকের জানমালের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নিশ্চয়তা দেন তিনি।
- কৃষির উন্নয়ন: সাবেক কৃষিমন্ত্রী হিসেবে নিজের বরেন্দ্র প্রকল্প ও গভীর নলকূপ স্থাপনের সফলতার কথা উল্লেখ করে পুনরায় কৃষি বিপ্লবের অঙ্গীকার করেন।
২০০১ সালের নির্বাচনে সাধারণ মা-বোনদের দেওয়া জমানো টাকার উপহারের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, সৎ নেতৃত্ব ছাড়া এলাকা উন্নত হয় না। যারা অতীতে বাংলাদেশের ক্ষতি করেছে, তাদের বর্জন করে কাজ করে বাঁচার সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
















