উত্তর সিরিয়ায় কুর্দি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর বিরুদ্ধে সরকারি বাহিনীর সাম্প্রতিক সাফল্যের প্রেক্ষাপটে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কুর্দি জনগোষ্ঠীর জন্য তাৎক্ষণিক নাগরিকত্ব প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘদিন রাষ্ট্রহীন হিসেবে তালিকাভুক্ত কুর্দিরাও সিরিয়ার নাগরিকত্ব পাচ্ছেন।
বুধবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আনাস খাত্তাব এ নির্দেশ জারি করেন। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সিরিয়ায় বসবাসকারী সব কুর্দির ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য হবে এবং রাষ্ট্রহীনদের বিষয়টি বিশেষভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আগামী ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নাগরিকত্ব কার্যক্রম সম্পন্ন করার সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে, দুই সপ্তাহ আগে প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা কুর্দি ভাষাকে সিরিয়ার অন্যতম জাতীয় ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তিনি সব কুর্দি সিরীয় নাগরিকের নাগরিকত্ব পুনর্বহালের কথা জানান এবং সরকারি বাহিনী ও কুর্দি শক্তির মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন।
সরকারি বাহিনীর দ্রুত অগ্রগতির ফলে কুর্দি নেতৃত্বাধীন বাহিনী রাক্কা ও দেইর আজ-জোরসহ একাধিক শহর ছেড়ে সরে যেতে বাধ্য হয়। এতে প্রায় চৌদ্দ বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধের পর দেশটির ওপর কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত হয়েছে।
এই অগ্রগতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশংসাও পেয়েছে। তিনি সিরীয় প্রেসিডেন্টকে জানিয়েছেন, কুর্দি বাহিনীর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে তিনি সন্তুষ্ট, যদিও অতীতে যুক্তরাষ্ট্র ওই বাহিনীকে সমর্থন দিয়েছিল।
তবে উত্তরের কয়েকটি এলাকায় এখনো অচলাবস্থা বিরাজ করছে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানাচ্ছে, কিছু কুর্দি বেসামরিক মানুষ খাদ্যসংকট ও বাস্তুচ্যুতির মুখে পড়েছেন।
সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের আদেশ বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত নির্দেশিকা ও বাস্তবায়ন কাঠামো তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদেশে কুর্দি সংস্কৃতি ও ভাষা সংরক্ষণ, কুর্দি অধ্যুষিত এলাকায় সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ে কুর্দি ভাষা শিক্ষার ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বসন্ত উৎসব নওরোজকে আগামী ২১ মার্চ জাতীয়ভাবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে বুধবার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা মস্কোয় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে সিরিয়ার ভবিষ্যৎ ও দেশটিতে রুশ সামরিক উপস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে পুতিন সিরিয়ায় স্থিতিশীলতা ফেরাতে আল-শারার উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
গত বছরের ডিসেম্বরে দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই রাশিয়া নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে এবং মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখতে তৎপর রয়েছে।
















