যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদানের দক্ষিণ করদোফান রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ শহর ডিলিংয়ে আধাসামরিক বাহিনীর ড্রোন হামলায় অন্তত কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। এই হামলা এমন এক সময় হয়েছে, যখন আগের দিনই দেশটির সেনাবাহিনী শহরটি ঘিরে থাকা দীর্ঘ অবরোধ ভাঙার ঘোষণা দেয়।
স্থানীয় সূত্র ও চিকিৎসা সংস্থার বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার আত্মঘাতী ড্রোন ব্যবহার করে ডিলিং শহরের একাধিক স্থানে হামলা চালানো হয়। এতে সুদানি সেনাবাহিনীর চুয়ান্নতম ব্রিগেডের সদর দপ্তর ও কেন্দ্রীয় বাজারসহ বিভিন্ন এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হতাহতদের মধ্যে বেসামরিক মানুষের সংখ্যাই বেশি বলে জানা গেছে।
ডিলিং শহরটি রাজ্যের অবরুদ্ধ রাজধানী কাদুগলি ও পাশের উত্তর করদোফান প্রদেশের রাজধানী এল ওবেইদের মাঝামাঝি অবস্থানে। এই এলাকাটি ঘিরে ফেলতে দীর্ঘদিন ধরে তৎপর ছিল আধাসামরিক বাহিনী। প্রায় দুই বছর ধরে চলা অবরোধ ভাঙার পর থেকেই শহরটিতে একের পর এক ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটছে, যাতে গুরুত্বপূর্ণ সেবামূলক স্থাপনা ধ্বংস হচ্ছে এবং প্রাণহানি বাড়ছে।
সামরিক সূত্র জানিয়েছে, আধাসামরিক বাহিনী আবারও ডিলিং অবরোধের চেষ্টা করছে। তবে সেনাবাহিনী এখনো শহরের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে এবং উত্তর করদোফানের কৌশলগত হাবিলা এলাকার আশপাশে তাদের আক্রমণ প্রতিহত করছে।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানে সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনীর মধ্যে চলমান গৃহযুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ নিহত এবং কোটি মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হয়েছে। রাজধানী খার্তুম থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর চলতি বছরের মার্চ থেকে আধাসামরিক বাহিনী করদোফান অঞ্চল ও উত্তর দারফুরের এল ফাশার শহরে তাদের আক্রমণ জোরদার করে। গত অক্টোবরে এল ফাশার দখলের পর সেখানে গণহত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে।
এই সহিংসতার প্রেক্ষাপটে সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক জরুরি মানবিক করিডোর খোলার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে খাদ্য ও জীবনরক্ষাকারী ওষুধ পৌঁছানো যায়। স্থানীয়রা বলছেন, এলাকায় স্বাস্থ্যসেবার চরম সংকট রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী, বিশেষ করে স্যালাইনের মারাত্মক ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
ডিলিং শহরে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র খাদ্যসংকট থাকলেও পর্যাপ্ত তথ্যের অভাবে গত নভেম্বরের প্রতিবেদনে সেখানে দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করা হয়নি। তবে জাতিসংঘের সহায়তায় করা এক মূল্যায়নে কাদুগলি শহরে দুর্ভিক্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়, যা দেড় বছরের বেশি সময় ধরে অবরোধে রয়েছে।
জাতিসংঘের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের পর থেকে করদোফান অঞ্চল থেকে অন্তত পঁয়ষট্টি হাজার মানুষ পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। এই সংঘাতকে জাতিসংঘ বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাস্তুচ্যুতি ও ক্ষুধা সংকট হিসেবে বর্ণনা করছে। একসময় এই যুদ্ধে প্রায় এক কোটি চল্লিশ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়।
সহিংসতা থেকে বাঁচতে হাজারো মানুষ প্রতিবেশী চাদে আশ্রয় নিয়েছে, যেখানে ইতোমধ্যে আট লাখের বেশি সুদানি শরণার্থী রয়েছে। নিরাপদে থাকলেও মানবিক সহায়তার তহবিল কমে যাওয়ায় তাদের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়ছে।
















