ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা এবং মার্কিন ডলারের দুর্বলতার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম নতুন রেকর্ড গড়েছে। বৃহস্পতিবার প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৫৫০০ ডলারের সীমা ছাড়িয়ে যায়, যা চলতি বছরের শুরু থেকে নজিরবিহীন উত্থানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখল।
বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম ২০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। সর্বশেষ এই উত্থান আসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর হুমকির পর। তিনি ইরানের উদ্দেশে বলেন, একটি বিশাল নৌবহর ওই অঞ্চলের দিকে এগোচ্ছে এবং প্রয়োজনে দ্রুত ও শক্তিশালী সামরিক পদক্ষেপ নিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত।
অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক সংকট ও যুদ্ধের আশঙ্কার সময় ঐতিহ্যগতভাবে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের প্রতি ঝোঁক বাড়ে। বর্তমান পরিস্থিতিতেও বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরে এসে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন।
২০২৫ সালজুড়ে স্বর্ণের দাম মোট ৬৪ শতাংশ বেড়েছিল। ওই বছর ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে প্রত্যাবর্তন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে অস্থিরতা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে তোলে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, স্বর্ণের এই উত্থানের পেছনে আরেকটি বড় কারণ হলো সরকারি বন্ডসহ প্রচলিত নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যমগুলোর প্রতি আস্থার অবনতি। উন্নত অর্থনীতিগুলোর বিপুল ঋণের বোঝা, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে।
এদিকে এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলো বৃহস্পতিবার দিনের শুরুতে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নিম্নমুখী থাকলেও পরে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়। জাপানের শেয়ারসূচক নিক্কেই দিনের শেষভাগে সামান্য বেড়ে যায়। হংকং ও সাংহাইয়ের বাজারেও সীমিত পরিসরে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা যদি আরও বাড়ে এবং ডলারের দুর্বলতা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে স্বর্ণের দামে আরও ঊর্ধ্বগতি দেখা যেতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের বড় একটি অংশ স্বর্ণকেই সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বিবেচনা করছে।
















