আশির দশকের জনপ্রিয় ব্যান্ডের সাবেক গায়ক রস ডেভিডসনকে ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার মামলায় দোষী সাব্যস্ত করেছেন আদালত। মঞ্চে তিনি রস ওয়াইল্ড নামে পরিচিত ছিলেন এবং ২০১৮ সালে ব্যান্ড স্প্যান্ডাউ ব্যালের সঙ্গে গান গেয়ে পরিচিতি পান।
উত্তর লন্ডনের ফিঞ্চলি এলাকার ৩৭ বছর বয়সী এই শিল্পীর বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের মার্চে লন্ডনে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়। একই সঙ্গে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে থাইল্যান্ডে আরেক নারীকে যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগও ছিল। এসব অভিযোগ তিনি আদালতে অস্বীকার করেছিলেন।
উড গ্রিন ক্রাউন কোর্টের জুরি সদস্যরা দীর্ঘ আলোচনা শেষে সব অভিযোগেই তাকে দোষী ঘোষণা করেন।
রায়ের পর মহানগর পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা কামিলা কেদাদরোভা বলেন, রস ডেভিডসন একজন ধারাবাহিক অপরাধী, যিনি কাপুরুষোচিত ও সুযোগসন্ধানী হামলা চালিয়েছেন।
বিচার চলাকালে প্রসিকিউশন জানায়, ডেভিডসনকে অনেকেই আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে দেখলেও ভুক্তভোগী দুই নারী তার ভিন্ন ও অন্ধকার দিকের মুখোমুখি হন। টিন্ডার নামের একটি ডেটিং অ্যাপে পরিচয়ের পর তাদের সঙ্গে তার যোগাযোগ গড়ে ওঠে।
লন্ডনের ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী আদালতে জানান, তিনি ঘুম থেকে উঠে দেখেন ডেভিডসন তাকে যৌনভাবে আক্রমণ করছে। তিনি বলেন, তিনি নিজেকে অসহায় ও ভয়ভীত মনে করেছিলেন এবং প্রতিরোধ করতে সাহস পাননি। ওই নারী আরও জানান, ডেভিডসন নড়াচড়া করতে না পারা বা অসহায় অবস্থায় থাকা ব্যক্তির সঙ্গে যৌন সম্পর্কের বিষয়ে আগ্রহের কথা বলেছিলেন।
ডেভিডসন নিজেকে যৌন বিষয়ে উদারমনস্ক বলে দাবি করে বলেন, তার কাছে এর অর্থ খোলামেলা আলোচনা ও অন্যের পছন্দ সম্পর্কে উদার দৃষ্টিভঙ্গি রাখা।
থাইল্যান্ডের ঘটনায় তিনি স্বীকার করেন যে, এক নারী ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় গোপনে ভিডিও ধারণ করেছিলেন। পরে তদন্তকারীরা তার ফোনে ওই ভিডিও পান, যেখানে নারীকে অর্ধনগ্ন ও অচেতন অবস্থায় দেখা যায়। আদালতে ওই নারী জানান, এমন ভিডিওর অস্তিত্ব সম্পর্কে তিনি আগে জানতেন না।
ভিডিও ধারণের অভিযোগে তিনি দোষ স্বীকার করলেও যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। পরে আদালত তাকে এসব অভিযোগেও দোষী সাব্যস্ত করে।
আদালত সূত্র জানায়, এর আগেও একাধিক যৌন অপরাধে তিনি দোষী প্রমাণিত হয়েছিলেন। সাম্প্রতিক রায় অনুযায়ী, তার সাজা ঘোষণার তারিখ পরে নির্ধারণ করা হবে।
এই মামলার রায়ের মধ্য দিয়ে সংগীত জগতের পরিচিত মুখ রস ডেভিডসনের বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি হলো।
















