ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনী অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের কয়েক সপ্তাহ পর এই ঘোষণা এলো।
বুধবার রাজধানী কারাকাসের ফুয়ের্তে তিউনা সামরিক কমপ্লেক্সে বলিভারিয়ান সেনাবাহিনীর সামরিক একাডেমিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শীর্ষ সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা রদ্রিগেজের সরকারের প্রতি আনুগত্য জানান। অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো রদ্রিগেজকে স্বাধীনতা সংগ্রামের নায়ক সিমন বলিভারের স্মরণে আনুষ্ঠানিক ব্যাটন ও তলোয়ার প্রদান করেন।
পাদ্রিনো বলেন, তারা সম্পূর্ণ আনুগত্য ও অধীনতা প্রকাশ করছেন এবং এটিকে দেশের ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে অপহরণের সময় মোট ৮৩ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে ভেনেজুয়েলার সেনা সদস্য ও কিউবার নিরাপত্তাকর্মীরাও ছিলেন।
দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলো পুলিশ বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুগত্যের ঘোষণা দিয়ে বলেন, রদ্রিগেজের শাসনকে সমর্থন করা মানে সরকারের ধারাবাহিকতা ও ভেনেজুয়েলার জনগণের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা।
গত ৩ জানুয়ারি মাদুরোকে অপহরণের পর থেকে দেলসি রদ্রিগেজ দেশটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি ক্ষমতা গ্রহণের পর নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনার কথা বলেন এবং আগের সরকারের সময় কারাবন্দি রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দেন।
রদ্রিগেজ জোর দিয়ে বলেছেন, ভেনেজুয়েলা কোনো বিদেশি শক্তির দ্বারা শাসিত হচ্ছে না। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির তেলসম্পদের ওপর মার্কিন কোম্পানিগুলোর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর দাবিসহ বিভিন্ন বিষয়ে চাপ অব্যাহত রাখছেন এবং প্রয়োজনে আরও সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকিও দিয়েছেন।
এদিকে ওয়াশিংটনে অবস্থানকালে বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো দাবি করেন, ভেনেজুয়েলার জনগণের রদ্রিগেজের ওপর আস্থা নেই। সামরিক অনুষ্ঠানে রদ্রিগেজ এই বক্তব্যের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, যারা ভেনেজুয়েলার জনগণের ক্ষতি করতে চায়, তারা যেন ওয়াশিংটনেই অবস্থান করে।
















