বিএনপি-জামায়াত-এনসিপি ত্রিমুখী সংঘাতে জখম অর্ধশত; ধর্মকে ব্যবহারের অভিযোগে পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরুর এক সপ্তাহ না পেরোতেই রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে দেশের বিভিন্ন জনপদ। লালমনিরহাট, চুয়াডাঙ্গা, লক্ষ্মীপুর ও ময়মনসিংহসহ অন্তত পাঁচটি জেলায় বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া রাজধানীর উত্তরা ও বাড্ডায় এনসিপি প্রার্থীর ওপর হামলার ঘটনায় নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে জনমনে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। নির্বাচনি সহিংসতাকে ছাপিয়ে এখন বড় বিতর্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘ধর্মের ব্যবহার’। বিএনপি ও এনসিপি অভিযোগ করেছে, একটি নির্দিষ্ট দল তাদের প্রতীককে জেতানোকে ‘ঈমানি দায়িত্ব’ হিসেবে প্রচার করছে, যা সরাসরি আচরণবিধির লঙ্ঘন। অন্যদিকে, নারী কর্মীদের হেনস্থা ও নেকাব খোলার মতো গুরুতর অভিযোগ নিয়ে ইসিতে ভিড় করছে জামায়াত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইসি ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সমান সুযোগের দাবি করলেও, মাঠ পর্যায়ের বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা।
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে কেন্দ্র দখলের ‘প্র্যাকটিস ম্যাচ’ শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপি নেতারা। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন প্রার্থীদের ঢালাও অভিযোগ না করে সুনির্দিষ্ট তথ্য দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
মাঠ পর্যায়ের চিত্র: সংঘর্ষ ও রক্তপাত
গত কয়েকদিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনি প্রচারকে কেন্দ্র করে ব্যাপক গোলযোগ দেখা দিয়েছে:
- লালমনিরহাট ও চুয়াডাঙ্গা: হাতীবান্ধা ও আলমডাঙ্গায় বিএনপি-জামায়াত সমর্থকদের দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
- ময়মনসিংহ: ভালুকায় বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের লড়াইয়ে আহত হয়েছেন ৩০ জনের বেশি।
- ঢাকা-১৮ আসন: এনসিপি প্রার্থী আদীবের জনসংযোগে হামলার ঘটনায় স্থানীয় বিএনপিকে দায়ী করা হয়েছে। হাসনাত আব্দুল্লাহ একে ‘কেন্দ্র দখলের মহড়া’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ধর্মীয় অপব্যাখ্যা ও এনআইডি জালিয়াতির অভিযোগ
বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন এক সংবাদ সম্মেলনে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন:
১. ধর্মকে ব্যবহার: নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দেওয়াকে ‘জান ও মাল দিয়ে ঈমান রক্ষার লড়াই’ হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে, যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
২. তথ্য চুরি: জামায়াত কর্মীদের বিরুদ্ধে নারী ভোটারদের এনআইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহের অভিযোগ করেছে বিএনপি। তবে জামায়াত একে ‘সম্পূর্ণ অসত্য’ দাবি করে উল্টো তাদের কর্মীদের শ্লীলতাহানির অভিযোগ এনেছে।
জামায়াতের উদ্বেগ ও সিসি ক্যামেরা দাবি
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সিইসির সাথে সাক্ষাৎ করে জানান, তাদের নারী কর্মীদের মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং জোড়পূর্বক নেকাব খোলার মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটছে। তারা প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন এবং বিতর্কিত কর্মকর্তাদের প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ না দেওয়ার অনুরোধ করেছেন।
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য আব্দুল আলীম বলেন, “ইসিকে ছোট ছোট অভিযোগও গুরুত্বের সাথে নিতে হবে। ধর্মকে ব্যবহার করে প্রচার চালানো ছোট বিষয় নয়, এটি সরাসরি আইন লঙ্ঘন।”
তবে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ এবং সচিব আখতার আহমেদ বর্তমান পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, অভিযোগ করার সুযোগ আছে বলেই প্রমাণিত হয় যে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বিদ্যমান। কোনো অনিয়ম হলে নির্বাচনি তদন্ত কমিটিকে (Electoral Inquiry Committee) জানানোর পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
















