চার বছর বিরতির পর কোরিয়ান জনপ্রিয় ব্যান্ড বিটিএসের প্রত্যাবর্তন ট্যুর ঘিরে টিকিটের জন্য তীব্র হুড়োহুড়ি শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কাছে তার দেশে আরও কনসার্ট আয়োজনের অনুরোধ জানিয়েছেন।
সোমবার এক বক্তব্যে শেইনবাউম বলেন, তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কাছে একটি চিঠি লিখেছেন। এখনো কোনো উত্তর না পেলেও তিনি আশা করছেন, জবাব ইতিবাচক হবে।
চার বছরের বিরতির পর বিশ্বভ্রমণ ট্যুরের অংশ হিসেবে বিটিএস মে মাসে মেক্সিকো সিটিতে তিনটি কনসার্ট করবে। স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, টিকিট বিক্রি শুরুর ৪০ মিনিটের মধ্যেই সব টিকিট শেষ হয়ে যায়।
টিকিট বিক্রি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে। কিছু ভক্ত টিকিট বিক্রির প্ল্যাটফর্ম ও পুনর্বিক্রয় সাইটগুলোর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত মূল্য নির্ধারণের অভিযোগ করেছেন, যার জেরে তদন্ত শুরু হয়েছে।
সরকারি বিক্রয় প্ল্যাটফর্মে টিকিটের দাম ছিল প্রায় এক হাজার আটশ পেসো থেকে সতেরো হাজার আটশ পেসো পর্যন্ত। তবে পুনর্বিক্রয় সাইটগুলোতে একই টিকিটের দাম এক লাফে বেড়ে এগারো হাজার তিনশ পেসো থেকে বুরানব্বই হাজার একশ পেসো পর্যন্ত পৌঁছায় বলে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা জানিয়েছে।
মেক্সিকোর ভোক্তা অধিকার সংস্থা টিকিট বিক্রির প্রক্রিয়ায় অনৈতিক ও ক্ষতিকর আচরণের অভিযোগে দুটি বড় পুনর্বিক্রয় প্ল্যাটফর্মকে শাস্তি দিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট শেইনবাউম জানান, প্রায় দশ লাখ তরুণ মাত্র দেড় লাখ কনসার্ট টিকিটের জন্য প্রতিযোগিতা করেছেন। তিনি বলেন, বিটিএস মেক্সিকোর তরুণদের মধ্যে অসম্ভব জনপ্রিয়।
বিশ্বব্যাপী সংগীত স্ট্রিমিং পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কোরিয়ান পপ সংগীতের ক্ষেত্রে মেক্সিকো এখন বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম বাজার। গত পাঁচ বছরে দেশটিতে এই ঘরানার গান শোনার হার পাঁচশ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
স্থানীয় কনসার্ট আয়োজক প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, ব্যান্ডটির ব্যস্ত সময়সূচির কারণে অতিরিক্ত শো যুক্ত করা সম্ভব নয়। এই তথ্য জানার পরই শেইনবাউম দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কাছে চিঠি পাঠান।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের দপ্তর ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি বলে সেখানকার গণমাধ্যম জানিয়েছে।
২০২২ সালের জুনের পর থেকে বিটিএস একসঙ্গে নতুন কোনো গান প্রকাশ করেনি। সদস্যরা আলাদা সংগীত কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন এবং পরে বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন।
বিশ্বব্যাপী আলোচিত এই প্রত্যাবর্তন ট্যুর এপ্রিলের শুরুতে দক্ষিণ কোরিয়ার গোইয়াং স্টেডিয়ামে তিনটি কনসার্ট দিয়ে শুরু হবে। এরপর এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশে কনসার্ট করার কথা রয়েছে।
সংগীত শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, কনসার্ট, পণ্য বিক্রি, লাইসেন্স, অ্যালবাম ও স্ট্রিমিং মিলিয়ে এই ট্যুর থেকে ব্যান্ড ও তাদের রেকর্ড লেবেল বিপুল রাজস্ব আয় করতে পারে।
















