কর–জিডিপি অনুপাত বাড়াতে কাঠামোগত সংস্কার ও দীর্ঘমেয়াদি নীতির সুপারিশ
কর–জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি এবং রাজস্ব ব্যবস্থায় কাঠামোগত সংস্কারের লক্ষ্যে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি সুপারিশসংবলিত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দিয়েছে জাতীয় কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত কমিটি।
কর–জিডিপি অনুপাত কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে উন্নীত করা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অভ্যন্তরীণ-বহির্বাণিজ্য সহায়ক করনীতি প্রণয়নের লক্ষ্যে জাতীয় কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত কমিটির একটি প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআরআই)–এর চেয়ারম্যান ড. জায়েদী সাত্তারের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের জাতীয় টাস্কফোর্স প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস–এর কাছে প্রতিবেদনটি হস্তান্তর করে।
প্রতিবেদন গ্রহণের সময় অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী, অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারক এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. আবদুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের দ্রুত ও টেকসই অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য সরকারের নিজস্ব রাজস্ব আয় বৃদ্ধি অপরিহার্য। তবে বিদ্যমান কর কাঠামো অপ্রয়োজনীয়ভাবে জটিল, অদক্ষ এবং পরোক্ষ করের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল। এ বাস্তবতায় খণ্ডিত সংস্কারের পরিবর্তে কর ব্যবস্থার মৌলিক ও কাঠামোগত সংস্কার জরুরি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
‘উন্নয়নের জন্য করনীতি: কর ব্যবস্থার পুনর্গঠনে সংস্কারমূলক কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে মোট ৫৫টি নীতিগত বিষয় চিহ্নিত করে সেগুলোর জন্য সুপারিশ দেওয়া হয়। এর মধ্যে অগ্রাধিকারভিত্তিক সাতটি নীতিগত বিষয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে প্রস্তাব করা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে কর–জিডিপি অনুপাত ১০–১২ শতাংশে এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে তা ১৫–২০ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। পাশাপাশি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ করের অনুপাত বর্তমান ৩০:৭০ থেকে ৫০:৫০–এ আনার সুপারিশ করা হয়েছে।
এ ছাড়া কর ব্যবস্থায় ডিজিটালাইজেশন ও অটোমেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ঝুঁকি বিশ্লেষণ, ঝুঁকিভিত্তিক অডিট, প্রণোদনা কাঠামোর পুনর্গঠন এবং বাণিজ্য করের পরিবর্তে দেশীয় করের দিকে কৌশলগত রূপান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শুল্ক কাঠামো আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে রপ্তানি ও আমদানির বিকল্প পণ্যের সুরক্ষা সমান করার সুপারিশও রয়েছে।
ভ্যাট ব্যবস্থায় বহু হারের পরিবর্তে একক হারের দিকে অগ্রসর হওয়া এবং বন্দরে পণ্য খালাসের পরিবর্তে পোস্ট ক্লিয়ারেন্স অডিট চালুর সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদন গ্রহণের পর প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের হাতে সময় সীমিত হলেও এসব নীতির বাস্তবায়নের পথচলা শুরু করতে চান তারা। তাঁর মতে, প্রস্তাবিত সংস্কার বাস্তবায়িত হলে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন আসবে।
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এই প্রতিবেদন রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি ও সুশাসন নিশ্চিত করতে একটি কার্যকর গাইডলাইন হিসেবে কাজ করবে।
কমিটির প্রধান ড. জায়েদী সাত্তার বলেন, গত এক দশকে রাজস্ব আদায়ের পদ্ধতি জটিল হয়ে পড়েছে এবং কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া রাজস্ব আদায়ের পরিসর বাড়ানো কঠিন।
















