ইউরোপীয় কমিশন ইলন মাস্কের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। অভিযোগ হলো, প্ল্যাটফর্মটির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক টুল গ্রক ব্যবহার করে বাস্তব মানুষের যৌনায়িত ভুয়া ছবি তৈরি করা হয়েছে।
এই উদ্যোগটি যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকমের জানুয়ারিতে ঘোষিত একই ধরনের তদন্তের পর নেওয়া হলো। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডিজিটাল সেবা আইনের অধীনে নিয়ম লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে এক্সকে বৈশ্বিক বার্ষিক আয়ের সর্বোচ্চ ছয় শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে।
এর আগে এক্সের নিরাপত্তা বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, যেসব অঞ্চলে এ ধরনের কনটেন্ট অবৈধ সেখানে গ্রককে মানুষের ছবিতে ডিজিটালভাবে পোশাক সরানোর সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের আয়ারল্যান্ডের প্রতিনিধি রেজিনা ডোহার্টি বলেন, ইউরোপীয় ব্যবহারকারীদের কাছে যৌনভাবে বিকৃত ও কৃত্রিম ছবি প্রদর্শিত হয়েছে কি না, তা কমিশন খতিয়ে দেখবে।
মানবাধিকারকর্মী ও ভুক্তভোগীরা বলেছেন, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে যৌন ছবি তৈরির সুযোগ কখনোই দেওয়া উচিত ছিল না। অফকম জানিয়েছে, তাদের তদন্তও চলমান থাকবে।
ইউরোপীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা সতর্ক করেছে, এক্স যদি কার্যকর পরিবর্তন না আনে, তবে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি এক্সের সুপারিশভিত্তিক অ্যালগরিদম ব্যবস্থার ঝুঁকি নিয়ে দুই হাজার তেইশ সালের ডিসেম্বরে শুরু হওয়া তদন্তও সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
কমিশনের ঘোষণার আগেই ইলন মাস্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গ্রকসংক্রান্ত নতুন বিধিনিষেধ নিয়ে বিদ্রুপমূলক একটি ছবি পোস্ট করেন। এর আগেও তিনি গ্রকের ছবি সম্পাদনা সুবিধা নিয়ে সমালোচনাকে সেন্সরশিপের অজুহাত বলে মন্তব্য করেছিলেন।
গ্রক অ্যাকাউন্টের দাবি অনুযায়ী, মাত্র ত্রিশ দিনে এই টুল দিয়ে সাড়ে পাঁচশ কোটি ছবির বেশি তৈরি করা হয়েছে।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রযুক্তি, নিরাপত্তা ও গণতন্ত্রবিষয়ক নির্বাহী সহসভাপতি হেনা ভিরকুনেন যৌন ডিপফেককে সহিংস ও অগ্রহণযোগ্য অপমানজনক আচরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে এক্স ইউরোপীয় নাগরিকদের, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের অধিকার সুরক্ষায় আইনগত দায়িত্ব পালন করেছে কি না।
এদিকে অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স ও জার্মানিতেও গ্রক চ্যাটবট নিয়ে তদন্ত চলছে। ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায় সাময়িকভাবে গ্রক নিষিদ্ধ করা হলেও পরে মালয়েশিয়া সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়।
এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়ন নীল যাচাইকরণ চিহ্ন ব্যবস্থায় ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগে এক্সকে একশ বিশ মিলিয়ন ইউরো জরিমানা করেছিল। সেই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর হামলা ও সেন্সরশিপ আরোপের অভিযোগ তোলেন। ইলন মাস্কও সেই বক্তব্য সমর্থন করেন।
















