২১ হাজার কোটি টাকার ঋণ পেলেন কৃষকরা; আদায়ের হার বেড়েছে প্রায় ১৪ শতাংশ
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) দেশের কৃষি খাতে ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সময়ে ব্যাংকগুলো মোট ২১ হাজার কোটি টাকার কৃষিঋণ বিতরণ করেছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ হাজার ৭৪৯ কোটি টাকা বা ২৯ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত চলতি অর্থবছরের ৩৯ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এরই মধ্যে প্রায় ৫৪ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। ক্রমবর্ধমান উৎপাদন ব্যয় ও জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় কৃষিঋণের এই প্রবাহ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
২৭ জানুয়ারি ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঋণ বিতরণের পাশাপাশি আদায়ের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। গত ছয় মাসে কৃষি খাত থেকে ২১ হাজার ৭৭৪ কোটি টাকার ঋণ আদায় হয়েছে, যা আগের বছরের চেয়ে ১৩ দশমিক ৯০ শতাংশ বেশি। বর্তমানে কৃষি খাতে মোট ঋণস্থিতি দাঁড়িয়েছে ৬২ হাজার ৭২৩ কোটি টাকা। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে, দেশের মোট শ্রমশক্তির ৪৬ শতাংশ এই খাতে নিয়োজিত থাকলেও নিট ঋণের মাত্র আড়াই শতাংশ কৃষিতে বরাদ্দ দেওয়া বর্তমান বাস্তবতায় যথেষ্ট নয়। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই লক্ষ্যমাত্রা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, উন্নত বীজ ও সেচ ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যাংকগুলোকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রান্তিক পর্যায়ে ঋণ পৌঁছাতে এজেন্ট ব্যাংকিং, সাব-ব্রাঞ্চ এবং এরিয়া অ্যাপ্রোচ মডেল ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ দারিদ্র্য হ্রাসের লক্ষ্যে কৃষিঋণ বিতরণ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
















