অজনপ্রিয় প্রার্থীকে জনপ্রিয় দেখানোর চেষ্টা; বিভ্রান্তিতে সাধারণ ভোটার ও প্রশাসন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘বট বাহিনী’র অপতৎপরতা ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় রোবটিক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে চালানো এই অভিযানে প্রতিপক্ষকে আক্রমণ, ভুয়া ভিডিও প্রচার এবং সাধারণ ভোটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে। সম্প্রতি তারেক রহমানসহ শীর্ষ নেতাদের মনোনয়ন বাতিল এবং মাওলানা মামুনুল হকের নামে ভুয়া ফটোকার্ড ছড়ানোর মতো ঘটনায় এই বাহিনীর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, বটের মাধ্যমে তৈরি করা ‘কৃত্রিম জনপ্রিয়তা’ বা ‘বিদ্বেষ’ ভোটের মাঠে আসল জনমতের প্রতিফলনকে বাধাগ্রস্ত করছে।
২৫ জানুয়ারি ২০২৬-এর বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, বটের আগ্রাসনে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ছড়িয়ে পড়ছে এআই (AI) প্রযুক্তিতে তৈরি ‘ডিপফেক’ ভিডিও। একটি চক্র জনপ্রিয় সাংবাদিকদের পুরনো ভিডিওর সাথে প্রযুক্তির মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য জুড়ে দিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল করছে।
কুমিল্লা-৪ আসনে মঞ্জুর মুন্সীর প্রার্থিতা নিয়ে অসত্য তথ্য প্রচার এবং বিএনপির সদস্য সংগ্রহ অভিযানকে ‘এনআইডি সংগ্রহ’ হিসেবে বিকৃত করার পেছনেও বটের ভূমিকা স্পষ্ট। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা জানান, বট মানে হলো স্বয়ংক্রিয় প্রোগ্রাম যা মানুষের ছদ্মবেশে লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার দিয়ে একটি নির্দিষ্ট ন্যারেটিভ বা প্রচারণাকে শক্তিশালী করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে হাজার হাজার বট অ্যাকাউন্ট থাকতে পারে, যার পেছনে বিপুল পরিমাণ রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক বিনিয়োগ থাকে। বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, বটের কমেন্টে কোনো ‘হিউম্যান টাচ’ থাকে না, যা চেনার প্রধান উপায় হলো অস্বাভাবিক নামের প্রোফাইল এবং ব্যক্তিগত তথ্যের অভাব।
এই ডিজিটাল ষড়যন্ত্র রুখতে রিয়েল-টাইম ফ্যাক্ট-চেকিং এবং নাগরিকদের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। অন্যথায়, এআই-ভিত্তিক এই গুজব নির্বাচন ও গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
















