জাপানের রাজধানী টোকিওর একটি চিড়িয়াখানায় রোববার আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়, যখন দেশটির শেষ দুটি জায়ান্ট পান্ডাকে বিদায় জানাতে হাজারো মানুষ ভিড় করেন। মঙ্গলবার চীনে ফেরত পাঠানো হবে যমজ পান্ডা শিয়াও শিয়াও ও লেই লেইকে।
টোকিওর উএনো চিড়িয়াখানায় শেষবারের মতো পান্ডাগুলো দেখার জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ান দর্শনার্থীরা। অনেককে অপেক্ষা করতে হয়েছে সাড়ে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত। আবেগে আপ্লুত হয়ে অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন বিদায়ের মুহূর্তে।
এই বিদায় এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন জাপান ও চীনের সম্পর্ক চরম উত্তেজনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি মন্তব্য করেন, চীন যদি তাইওয়ানে হামলা চালায়, তাহলে জাপান সামরিকভাবে জড়িত হবে। এই বক্তব্যের পর থেকেই দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক দ্রুত অবনতি হয়েছে।
যমজ পান্ডাদের চলে যাওয়ার ফলে ১৯৭২ সালের পর এই প্রথম জাপানে আর কোনো পান্ডা থাকছে না। ওই বছরই জাপান ও চীন কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছিল।
চীন দীর্ঘদিন ধরে জায়ান্ট পান্ডাকে কূটনৈতিক সৌহার্দ্যের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। বিদেশে পাঠানো সব পান্ডার মালিকানা চীনের কাছেই থাকে, এমনকি বিদেশে জন্ম নেওয়া শাবকদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। সাধারণত একটি জোড়া পান্ডার জন্য স্বাগতিক দেশকে বছরে প্রায় এক মিলিয়ন ডলার ফি দিতে হয়।
টোকিও মহানগর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শেষবার পান্ডা দেখার জন্য নির্ধারিত চার হাজার চারশ আসনের জন্য প্রায় এক লাখ আট হাজার মানুষ আবেদন করেছিলেন।
এক দর্শনার্থী জানান, তিনি সন্তান জন্মের পর থেকেই নিয়মিত ছেলেকে পান্ডা দেখতে নিয়ে আসতেন। শেষবারের মতো তাদের দেখা সন্তানের জন্য একটি সুন্দর স্মৃতি হয়ে থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আরেক দর্শনার্থী বলেন, ছোট্ট অবস্থায় জন্ম থেকে শুরু করে পান্ডাদের বেড়ে ওঠা দেখা ছিল দারুণ আনন্দের অভিজ্ঞতা।
শিয়াও শিয়াও ও লেই লেই জন্ম নেয় ২০২১ সালে উএনো চিড়িয়াখানায়। তাদের বাবা-মা শিন শিন ও রি রি প্রজনন গবেষণার অংশ হিসেবে চীন থেকে জাপানে আনা হয়েছিল।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের পান্ডা ঋণ কার্যক্রম অনেক ক্ষেত্রে বড় বাণিজ্য চুক্তির সঙ্গেও যুক্ত ছিল। তবে বর্তমান রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে জাপানে নতুন করে পান্ডা পাঠানো হবে কি না, তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
তাইওয়ান ইস্যুতে জাপানের অবস্থানে ক্ষুব্ধ বেইজিং সাম্প্রতিক সময়ে জাপানের প্রতি কঠোর মনোভাব দেখাচ্ছে। চলতি মাসের শুরুতে চীন জাপানের জন্য বিরল খনিজজাত পণ্যের রপ্তানিতে কড়াকড়ি আরোপ করেছে।
এই প্রেক্ষাপটে পান্ডাদের বিদায় শুধু একটি চিড়িয়াখানার ঘটনা নয়, বরং তা জাপান-চীন সম্পর্কের বর্তমান শীতলতার প্রতীক হিসেবেও দেখা হচ্ছে।















