আইন আল-আরাব (কোবানে) শহরে খাদ্য ও জ্বালানি সহ জরুরি সহায়তা নিয়ে জাতিসংঘের একটি বহর পৌঁছেছে। উত্তর সিরিয়ার কুর্দি-অধ্যুষিত এই শহরটিতে সিরীয় সেনাবাহিনী ও কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসের (এসডিএফ) মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই সহায়তা পৌঁছাল।
রোববার আলেপ্পো প্রদেশের আইন আল-আরাবে এই সহায়তা বহর প্রবেশ করে। শহরটি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বাহিনীর ঘেরাওয়ের মধ্যে থাকায় সেখানে মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছিল। বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগও কয়েক দিন ধরে বিচ্ছিন্ন রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় দপ্তর জানিয়েছে, ২৪টি ট্রাকে করে জ্বালানি, রুটি ও তাৎক্ষণিকভাবে খাওয়ার উপযোগী খাদ্যসহ জীবনরক্ষাকারী সহায়তা আনা হয়েছে। এই সহায়তা সিরীয় সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমেই পাঠানো হয়েছে বলে জানানো হয়।
সিরীয় সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সহায়তা প্রবেশের সুবিধার্থে তারা দুটি মানবিক করিডোর খুলেছে—একটি আইন আল-আরাবের দিকে এবং আরেকটি পাশের হাসাকা প্রদেশের দিকে।
প্রায় চার লাখ জনসংখ্যার এই শহরটি উত্তরে তুরস্ক সীমান্ত এবং চারপাশে সরকারি বাহিনীর অবস্থানের কারণে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এটি সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এসডিএফের মূল ঘাঁটি থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
এসডিএফ অভিযোগ করেছে, সিরীয় সেনাবাহিনী শহরটির ওপর অবরোধ আরোপ করেছে। চলতি মাসের শুরুতে এসডিএফকে সেনাবাহিনীতে একীভূত করার বিষয় নিয়ে মতবিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে গত সপ্তাহে চার দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় তারা।
এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ পরে আরও ১৫ দিনের জন্য বাড়ানো হয়। দামেস্ক জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় আইএসআইএল সংশ্লিষ্ট প্রায় সাত হাজার বন্দিকে এসডিএফ নিয়ন্ত্রিত কারাগার থেকে ইরাকে স্থানান্তরের পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই যুদ্ধবিরতি প্রয়োজন ছিল।
তবে রোববার রাতের দিকে দুই পক্ষই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে। সিরীয় সেনাবাহিনীর দাবি, এসডিএফ তাদের অবস্থানে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে এসডিএফ বলেছে, দামেস্ক-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো আইন আল-আরাবের আশপাশে হামলা চালিয়েছে, যাতে এক শিশু নিহত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সেনাবাহিনীর অগ্রযাত্রা থেকে পালিয়ে আসা বহু মানুষের আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে শহরটি।
আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানবিক সহায়তা পৌঁছালেও পরিস্থিতি এখনও খুবই নাজুক। যেকোনো সময় আবার সংঘর্ষ শুরু হতে পারে, যা পুনর্গঠন কার্যক্রমকে আরও পিছিয়ে দেবে।
২০১৫ সালে আইএসআইএলের দীর্ঘ অবরোধ ভেঙে এসডিএফ আইন আল-আরাব দখল করে, যা তাদের প্রথম বড় সাফল্য হিসেবে পরিচিত। পরবর্তী চার বছরে যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন জোটের সহায়তায় তারা সিরিয়ায় আইএসআইএলের নিয়ন্ত্রণ অবসান ঘটায়।
২০২৪ সালে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর ক্ষমতায় আসা নতুন সরকার এসডিএফকে নিরস্ত্রীকরণের দাবি জানিয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এসডিএফের সঙ্গে তাদের জোটের মূল উদ্দেশ্য এখন প্রায় শেষের পথে।
















