রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ইউক্রেন দাবি করেছে, অধিকৃত ক্রিমিয়া উপদ্বীপে রাশিয়ার যুদ্ধজাহাজে সফল হামলা চালানো হয়েছে।
ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে, সেভাস্তোপল উপসাগরে রাশিয়ার দুটি বড় অবতরণ জাহাজ ও একটি রাডার স্থাপনায় আঘাত হানা হয়েছে। তাদের দাবি, জাহাজগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে।
অন্যদিকে রাশিয়া জানিয়েছে, ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় কৃষ্ণসাগর তীরবর্তী তুয়াপসে বন্দরে অন্তত একজন নিহত এবং একজন আহত হয়েছেন। এতে পরিবহন অবকাঠামোরও ক্ষতি হয়েছে।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, রাতভর তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১১২টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
এদিকে ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলেও রাশিয়ার হামলা অব্যাহত রয়েছে। রাজধানী কিয়েভসহ খারকিভ, খেরসন, সুমি ও জাপোরিঝিয়ায় হামলার খবর পাওয়া গেছে।
সুমি অঞ্চলে ড্রোন হামলায় একটি গাড়িতে আঘাত হানলে তিন নারী আহত হন। কিয়েভের ব্রোভারি এলাকায় দুটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একজন আহত হয়েছেন।
কিয়েভ অঞ্চলের সামরিক প্রশাসনের প্রধান মিকোলা কালাশনিক বলেন, “শত্রু আবারও বেসামরিক মানুষের বাড়িঘর লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।”
খারকিভে রেল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানা গেছে।
ইউক্রেনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় খেরসনে একজন নিহত ও সাতজন আহত হয়েছেন, আর জাপোরিঝিয়ায় চারজন আহত হয়েছেন।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর থেকে এ পর্যন্ত ১৫ হাজারের বেশি ইউক্রেনীয় বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একাধিকবার আলোচনা হলেও এখনো কোনো সমাধান আসেনি। বিশেষ করে ভূখণ্ড নিয়ে দুই পক্ষের মতপার্থক্য বড় বাধা হয়ে রয়েছে।
ইউক্রেন বর্তমান সীমারেখা ধরে যুদ্ধ স্থগিতের প্রস্তাব দিলেও রাশিয়া পুরো দোনেৎস্ক অঞ্চল দখলের দাবি থেকে সরে আসেনি।
ফলে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে, আর প্রতিদিনের হামলায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছেই।
















