যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরান জানিয়েছে, আপাতত তারা আলোচনায় বসবে না। এতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় নির্ধারিত সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ইসলামাবাদে নতুন দফার আলোচনায় ইরান প্রতিনিধি পাঠাবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে—বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে নৌ অবরোধ এবং একটি ইরানি জাহাজ আটক করার মাধ্যমে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, নতুন করে কোনো হামলা হলে ইরানও জবাব দেবে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তার প্রতিনিধিরা পাকিস্তানে আলোচনার জন্য যাচ্ছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার হুমকিও পুনর্ব্যক্ত করেছেন, যা উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ওমান উপসাগরে একটি ইরানি জাহাজ আটক করার ঘটনাকে তেহরান “দস্যুতা” হিসেবে উল্লেখ করেছে। এই ঘটনাও আলোচনার পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলেছে।
মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান এখনো আশা ছাড়েনি। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলে আলোচনায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইসলামাবাদে সম্ভাব্য বৈঠক ঘিরে ইতোমধ্যে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো ঘিরে ফেলা হয়েছে এবং হোটেলগুলো খালি করা হয়েছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় কোনো সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা কম। আলোচনার প্রধান লক্ষ্য হতে পারে যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানো।
মূল অচলাবস্থার বিষয় দুটি হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ—যেখানে এখনো দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান একদিকে কঠোর অবস্থান দেখাচ্ছে, অন্যদিকে পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক পথ খোলা রাখছে। এতে বোঝা যায়, আলোচনা পুরোপুরি বন্ধ না হলেও শর্তসাপেক্ষ।
এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করছে দুই পক্ষের অংশগ্রহণের ওপর। যদি আলোচনা শুরুই না হয়, তাহলে পুরো প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তায় পড়ে যাবে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, কোনো না কোনোভাবে চুক্তি হবে। কিন্তু বাস্তবতা বলছে, উত্তেজনা কমানোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
















