১০ বছর ধরে কাপড় ধোয়ার পাথর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল বোমাটি; সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে
কক্সবাজারের রামু উপজেলায় পুকুর সংস্কারের সময় উদ্ধার হওয়া একটি বড় ধাতব বস্তু দীর্ঘ ১০ বছর পর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবিস্ফোরিত বোমা হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, স্থানীয় বাসিন্দারা এর বিপজ্জনক দিক সম্পর্কে অবগত না থাকায় গত এক দশক ধরে সেটিকে পুকুরপাড়ে কাপড় ধোয়ার পাথর হিসেবে ব্যবহার করে আসছিলেন। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের লট উখিয়ারঘোনা তচ্ছাখালী এলাকায় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞরা বস্তুটিকে শক্তিশালী বোমা হিসেবে চিহ্নিত করেন।
২৫ জানুয়ারি ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ১০-১৫ বছর আগে স্থানীয়রা পুকুর খননের সময় সিলিন্ডার আকৃতির এই ভারী বস্তুটি খুঁজে পান। এরপর থেকে এটি পুকুরপাড়েই পড়ে ছিল। সম্প্রতি রামুর ইতিহাস গবেষক ও আইনজীবী শিরূপন বড়ুয়া ফেসবুকে বস্তুটির ছবি পোস্ট করলে তা প্রশাসনের নজরে আসে। এরপরই সেনাবাহিনী ও পুলিশের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে গিয়ে নিশ্চিত করে যে এটি একটি সচল বোমা হতে পারে।
বোমাটির বিবরণ ও বর্তমান পরিস্থিতি:
- আকার ও ওজন: বোমাটি দৈর্ঘ্যে প্রায় ১১৯ সেন্টিমিটার এবং ব্যাসে ১১৭ সেন্টিমিটার। এর ওজন প্রায় ৩০০ থেকে ৩২০ কেজি (প্রায় ৮ মণ)।
- ধরন: প্রাথমিকভাবে এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানি বাহিনীর নিক্ষিপ্ত ‘জেনারেল পারপাস’ বোমা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
- নিরাপত্তা ব্যবস্থা: রামু থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, বোমাটির চারপাশে নিরাপত্তা বেষ্টনী দেওয়া হয়েছে এবং স্থানীয়দের নিরাপদ দূরত্বে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- বিশেষজ্ঞ পর্যবেক্ষণ: ক্যাপ্টেন জান্নাতুল ফেরদৌসের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর একটি টিম বোমাটি পর্যবেক্ষণ করেছেন। এর ভেতরে এখনও বিস্ফোরক থাকতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
এক নজরে রামুতে উদ্ধারকৃত বোমা:
| বিষয় | বিবরণ |
| উদ্ধারস্থল | তচ্ছাখালী (৮নং ওয়ার্ড), কাউয়ারখোপ ইউনিয়ন, রামু। |
| আবিষ্কারের সময় | প্রায় ১০-১৫ বছর আগে (পুকুর সংস্কারের সময়)। |
| ব্যবহার | গত ১০ বছর ধরে কাপড় ধোয়ার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল। |
| বর্তমান অবস্থান | সেনাবাহিনীর কড়া পাহাড়ায় নিরাপদ স্থানে সংরক্ষিত। |
| পরবর্তী পদক্ষেপ | নিষ্ক্রিয় করা অথবা ইতিহাসের স্মারক হিসেবে সংরক্ষণ। |
ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও জনমনে আতঙ্ক:
স্থানীয় প্রবীণদের মতে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কক্সবাজারের এই অঞ্চলে জাপানি ও ব্রিটিশ বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক যুদ্ধ হয়েছিল। সেই সময়ের অনেক অবিস্ফোরিত বোমা মাঝেমধ্যেই মাটির নিচে পাওয়া যায়। ইতিহাস গবেষক শিরূপন বড়ুয়া বলেন, “এটি রামুর ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যদি এর ভেতরে বিস্ফোরক না থাকে, তবে এটি জাদুঘরে সংরক্ষণ করা উচিত।” তবে দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী বোমার ওপর দাঁড়িয়ে কাপড় ধোয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ও বিস্ময় সৃষ্টি হয়েছে।
















