কমলছড়িতে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশি অ্যাকশন; সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা রোধে প্রশাসনের কড়া নজরদারি
খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ভুয়াছড়িতে গত ১৪ জানুয়ারি ভূমি বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আহত বিমল ত্রিপুরার মৃত্যু হয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ এখন পর্যন্ত দু’জনকে গ্রেফতার করেছে। শনিবার বিকেলে খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক জরুরি ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহাদাত হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
২৫ জানুয়ারি ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, খাগড়াছড়ি সদরের কমলছড়ি এলাকার একটি জমির মালিকানা নিয়ে পাহাড়ি ও বাঙালি দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। গত ১৪ জানুয়ারি বিরোধপূর্ণ জমিতে জঙ্গল পরিষ্কার করাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৬ জন আহত হয়েছিলেন।
গ্রেফতারকৃতদের পরিচয় ও মামলা পরিস্থিতি:
পুলিশ জানিয়েছে, বিমল ত্রিপুরার মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় মোড় নিয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন:
- মো: আব্দুর রশিদ: ঘটনার পর এলাকা ছেড়ে পালালেও পুলিশের বিশেষ অভিযানে তাঁকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী থেকে গ্রেফতার করা হয়।
- মো: আল আমিন: বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) কুমিল্লার কান্দিরপাড় এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, এ ঘটনায় মংশিতু মারমা বাদী হয়ে খাগড়াছড়ি সদর থানায় ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ২০-২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষ মোছা. খাদিজাও একটি পাল্টা মামলা করেন, তবে সেই মামলার আসামিরা বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।
এক নজরে খাগড়াছড়ি ভুয়াছড়ি সংঘর্ষের ঘটনা:
[Image showing Additional SP Shahadat Hossain addressing the press at Khagrachari SP office, while photos of the two arrested suspects and the disputed land site are displayed on a screen behind him]
| বিষয় | বিবরণ |
| সংঘর্ষের তারিখ | ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ (দুপুর)। |
| নিহত ব্যক্তি | বিমল কান্তি ত্রিপুরা (৫০)। |
| আহতদের অবস্থা | মো. আব্দুল বশির বর্তমানে চট্টগ্রাম সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। |
| বিরোধের কারণ | ভুয়াছড়ি মৌজার ৩ একর জমির মালিকানা দাবি। |
| প্রশাসনের অবস্থান | এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার রোধে নজরদারি। |
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি একটি ব্যক্তিগত জমি সংক্রান্ত বিরোধ। তবে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল এই ঘটনাকে পাহাড়ি-বাঙালি ইস্যু বানিয়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাদাত হোসেন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “কেউ যেন ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে না পারে, সেদিকে সজাগ থাকতে হবে। অপরাধী যে-ই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।” বর্তমানে কমলছড়ি এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।
















