গোয়েন্দা সংস্থার সংঘাতের আভাস; নাশকতা রুখতে ড্রোন ও ডগ স্কোয়াড মোতায়েন
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে নির্বাচনি প্রচারণার ডামাডোল শুরু হলেও ভেতরে ভেতরে বাড়ছে রাজনৈতিক সংঘাতের শঙ্কা। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্যানুযায়ী, দলীয় কোন্দল ও অভ্যন্তরীণ রেষারেষি থেকে বড় ধরনের সহিংসতার আশঙ্কা থাকায় সারা দেশের প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। ভোটগ্রহণের পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নিরাপদ রাখতে এবার রেকর্ড সংখ্যক ৮ লাখ ৯৭ হাজার ১১৭ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। বিশেষ করে দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অপরাধী শনাক্তে আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তি এবং বিস্ফোরক উদ্ধারে ডগ স্কোয়াড ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে সারা দেশে টহল ও তল্লাশি চৌকি (Checkpost) বৃদ্ধির মাধ্যমে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে সরকার।
নির্বাচনি ডামাডোলের প্রথম দিনেই দেশের কয়েকটি স্থানে বিক্ষিপ্ত সংঘাত ও টার্গেট কিলিংয়ের ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিরাপত্তা বাহিনীর বিন্যাস: ৯ লাখের মহাপরিকল্পনা
এবারের নির্বাচনে শান্তি রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনীর সংখ্যা ও বিন্যাস আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে:
- সেনাবাহিনী: ১ লাখ সদস্য সরাসরি মাঠে থাকছেন।
- নৌ ও বিমান বাহিনী: ৫ হাজার নৌ সদস্য এবং ৩ হাজার ৭৩০ জন বিমান বাহিনীর সদস্য (হেলিকপ্টার সাপোর্টসহ)।
- পুলিশ ও আনসার: ১ লাখ ৪৯ হাজার পুলিশ এবং ৫ লাখ ৭৬ হাজার আনসার সদস্য।
- বিজিবি ও র্যাব: ৩৭ হাজার বিজিবি এবং ৭ হাজার ৭০০ র্যাব সদস্য।
- অন্যান্য: কোস্ট গার্ডের ৩ হাজার ৫৮৫ জন এবং ফায়ার সার্ভিসের ১৩ হাজার ৩৯০ জন সদস্য সাপোর্ট সার্ভিস হিসেবে কাজ করবেন।
প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও আধুনিক সরঞ্জাম
ভোট জালিয়াতি ও নাশকতা ঠেকাতে প্রশাসনের ৩টি বিশেষ কৌশল:
১. সিসিটিভি ও ড্রোন: প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে সার্বক্ষণিক সিসিটিভি ক্যামেরা থাকবে। দুর্গম পাহাড় ও চরাঞ্চলে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ৪শর বেশি ড্রোন ওড়ানো হবে।
২. ডগ স্কোয়াড: বিস্ফোরক ও মাদকদ্রব্য শনাক্তে বিজিবি, র্যাব এবং ডিএমপি আলাদাভাবে প্রশিক্ষিত ডগ স্কোয়াড নিয়োগ করবে।
৩. হেলিকপ্টার সাপোর্ট: ব্যালট পেপার পরিবহন এবং জরুরি প্রয়োজনে কর্মকর্তাদের যাতায়াতে বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে।
জরুরি সেবা ৯৯৯-এ বিশেষ সেল
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নির্বাচনি সহিংসতা সংক্রান্ত অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। এই সেল সরাসরি আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত থাকবে, ফলে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনার তথ্য পাওয়ামাত্র দ্রুততম সময়ে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ ও পরামর্শ
অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার এবং রাজনৈতিক টার্গেট কিলিংয়ের ঘটনাগুলো অশনিসংকেত। তাঁদের মতে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কেবল সংখ্যায় নয়, বরং নিরপেক্ষতায় সর্বোচ্চ কঠোর হতে হবে। কোনো বিশেষ দলের নেতাকর্মীদের ছাড় না দিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারলেই পরিস্থিতির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা সম্ভব হবে।
















