ফ্যাসিবাদ নতুন রূপে ফিরলে পরিণতিও একই হবে—হুঁশিয়ারি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নতুন করে কোনো ভোট ডাকাতি দেখতে চান না বলে মন্তব্য করেছেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ যদি নতুন কোনো জামা পরে আবার সামনে আসে, তবে তার পরিণতিও আগের মতোই হবে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর মিরপুর–১০ নম্বরে আদর্শ স্কুল মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর আমির ও ঢাকা–১৫ আসনের প্রার্থী শফিকুর রহমান। এই জনসভার মধ্য দিয়ে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়।
শফিকুর রহমান বলেন, আমি বিশ্বাস করি, বিগত তিনটি নির্বাচনে অন্তত ৪০ শতাংশ মানুষ ভোট দিতে পারেননি। অনেকেই জীবনে একবারও ভোট দিতে পারেননি। যারা এই ভোট কেড়ে নিয়েছে, তারাই ভোট ডাকাত। আমরা নতুন কোনো ভোট ডাকাত দেখতে চাই না।
তিনি আরও বলেন, চাঁদাবাজি, দখল বাণিজ্য, মামলাবাজি, দুর্নীতি, সন্ত্রাস—এসব থেকে যারা নিজেদের কর্মীদের বিরত রাখতে পারবে, তারাই আগামীর বাংলাদেশ উপহার দিতে পারবে। দেশে কাউকে আর চাঁদাবাজি করতে দেওয়া হবে না।
বিএনপির প্রতিশ্রুত ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, দুই হাজার টাকা দিয়ে একটি পরিবারের সমস্যার সমাধান হবে না। কার্ড দিলে সেটি জনগণের কাছে পৌঁছাবে কি না, সেটিই প্রশ্ন।
জনসভায় এর আগে বক্তব্য দেন জামায়াত–নেতৃত্বাধীন ‘১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’–এর শরিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, কার্ড দেওয়ার কথা আমরা শুনছি। কিন্তু দুই হাজার টাকার কার্ড নিতে যদি এক হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়, তাহলে সেই কার্ডের মূল্য কী?
নাহিদ ইসলাম নির্বাচন কমিশনের প্রতি নিরপেক্ষ আচরণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, সব দলের জন্য একই আচরণবিধি থাকতে হবে। বৈষম্য মেনে নেওয়া হবে না। আমাদের আন্দোলনের দিকে ঠেলে দেবেন না।
দুজন নেতাই একই সঙ্গে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।
দুপুর আড়াইটার মধ্যেই সভাস্থল হাজারো নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে। বিকেল ৩টায় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে জনসভার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। সভায় জামায়াত ও ১০ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।
















