যুক্তরাজ্যে রিমান্ডে থাকা ফিলিস্তিনপন্থী এক কর্মী অনশন আরও কঠোর করার ঘোষণা দিয়েছেন। খাদ্য গ্রহণের পাশাপাশি পানি পানও বন্ধ করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তার দাবি, এই চরম সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তিনি সরকারকে তার দাবিগুলোর বিষয়ে আলোচনায় বসতে বাধ্য করতে চান।
২২ বছর বয়সী উমের খালিদ নামের ওই কর্মী ১৩ দিন ধরে অনশন করছেন। এতদিন তিনি ইলেকট্রোলাইট ও লবণযুক্ত তরল গ্রহণ করলেও আগামী শনিবার থেকে সম্পূর্ণভাবে পানি পান বন্ধ করবেন বলে জানিয়েছেন।
কারাগার থেকে মধ্যস্থতার মাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে উমের খালিদ বলেন, কঠোর পদক্ষেপই একমাত্র উপায় যা সরকারকে প্রতিক্রিয়া জানাতে বাধ্য করতে পারে। তার ভাষায়, এই কারাবাস কোনো জীবন নয়, বরং জীবন থেমে যাওয়ার মতো। বাইরে পৃথিবী এগিয়ে চলেছে, আর তারা কংক্রিটের কক্ষে বসে আছেন।
তিনি অবিলম্বে জামিন, কারাগারে কথিত সেন্সরশিপ বন্ধ, গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে যুক্তরাজ্যের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততার তদন্ত এবং ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল গাজার আকাশে উড়তে থাকা ব্রিটিশ নজরদারি বিমানের ভিডিও প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। ওই দিন ইসরায়েলি হামলায় ব্রিটিশ ত্রাণকর্মীরা নিহত হন।
উমের খালিদ অক্সফোর্ডশায়ারের ব্রাইজ নর্টন বিমানঘাঁটিতে অনুপ্রবেশ ও দুটি সামরিক বিমানে রং ছিটানোর ঘটনায় অভিযুক্ত পাঁচ কর্মীর একজন। ওই ঘটনায় সরকার বিপুল ক্ষয়ক্ষতির দাবি করে এবং সংশ্লিষ্ট আন্দোলনকারী সংগঠনকে সন্ত্রাসী ঘোষণা করে নিষিদ্ধ করে। তবে উমের তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
তিনি নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া ধারাবাহিক অনশনে অংশ নেওয়া আটজন রিমান্ড বন্দির একজন। সম্প্রতি তাদের মধ্যে তিনজন অনশন প্রত্যাহার করলেও উমের এখনো খাদ্য গ্রহণ করছেন না।
যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, জামিনের বিষয়টি আদালতের এখতিয়ারভুক্ত এবং কারাগারে বন্দিদের কল্যাণ সংক্রান্ত নিয়ম মেনেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে উমেরের অন্যান্য দাবির বিষয়ে সরকার কোনো স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া দেয়নি।
এদিকে তার পরিবার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। উমের একটি বিরল পেশিশক্তি ক্ষয়জনিত রোগে ভুগছেন। তার মা শাবানা খালিদ বলেন, ছেলের শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতি হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। ক্যানসার থেকে সেরে ওঠার মধ্যেই তাকে প্রতিবন্ধী বোনের দেখাশোনা করতে হচ্ছে, ফলে দূরের কারাগারে যাতায়াত করাও তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
উমেরের ভাই উসমান জানান, তার ভাই যা বলেন তা বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়েও তিনি এই আন্দোলন চালিয়ে যেতে প্রস্তুত বলে পরিবারের ধারণা।
কারাবন্দি ফিলিস্তিনপন্থীদের সহায়তাকারী একটি সংগঠনের দাবি, উমের কারা কর্তৃপক্ষকে অচেতন হয়ে পড়লে হস্তক্ষেপ না করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
২০২৭ সালের জানুয়ারিতে তার বিচার শুরুর কথা রয়েছে। সে সময়ের মধ্যে তিনি দেড় বছরের বেশি সময় রিমান্ডে কাটাবেন, যা স্বাভাবিক বিচারের আগের আটক সময়সীমার চেয়ে অনেক বেশি।
















