মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পর ইরানের ভেতরে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া নাকি আলোচনায় ফেরার প্রশ্নে নতুন করে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।
ইরানের সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বলেছে, তারা যেকোনো সময় নতুন সংঘাতের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। রাজধানী তেহরানে সামরিক কুচকাওয়াজ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে শক্ত অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমেও যুদ্ধমুখী মনোভাবের প্রচার দেখা যাচ্ছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে জনগণের বড় অংশ লড়াই চালিয়ে যেতে চায়।
তবে দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে ভিন্ন সুরও শোনা যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, উত্তেজনা বাড়ানো নয়, বরং সংলাপ ও কূটনৈতিক সমাধানই প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি কেবল ধ্বংস বাড়াবে এবং কোনো পক্ষের জন্যই লাভজনক হবে না।
এদিকে পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বাস্তবতার কথা উল্লেখ করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি ইরানের তুলনায় অনেক বেশি, তাই কৌশলগতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের ভেতরে মূলত দুটি অবস্থান স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একদিকে কঠোরপন্থীরা মনে করছে আপস করলে তা দুর্বলতার পরিচয় হবে এবং প্রতিরোধ চালিয়ে যেতে হবে। অন্যদিকে বাস্তববাদীরা মনে করছেন, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত দেশের অবকাঠামো ও অর্থনীতির ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করছে, তাই আলোচনার পথ খোলা রাখা উচিত।
যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর থাকলেও তা অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ এবং পারস্পরিক অবিশ্বাসের কারণে আলোচনা এগোচ্ছে না। ফলে যেকোনো সময় পরিস্থিতি আবারও সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই অভ্যন্তরীণ দ্বিধা কেবল দেশটির জন্য নয়, পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তার ওপর নির্ভর করবে ভবিষ্যৎ সংঘাত নাকি সমঝোতার পথ তৈরি হবে।
















