‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ-২০২৬’ ও বডি ওয়ান ক্যামেরায় নজরদারি; প্রথমবারের মতো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ প্রশিক্ষণ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এবারের নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও সন্ত্রাস দমনে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার হিসেবে ৪১৮টি ড্রোন এবং ডগ স্কোয়াড মোতায়েন করা হবে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির সভা শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এই তথ্য জানান। তিনি জানান, প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবেন।
২২ জানুয়ারি ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে প্রথমবারের মতো ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) প্রস্তুতকৃত ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ-২০২৬’ ব্যবহার করা হবে। এর মাধ্যমে যেকোনো অভিযোগের তাৎক্ষণিক প্রতিকার নিশ্চিত করা হবে।
নিরাপত্তা বাহিনীর বিন্যাস ও সরঞ্জাম:
- ড্রোন প্রযুক্তি: নির্বাচনে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সমন্বিতভাবে ৪১৮টি ড্রোন ব্যবহার করা হবে। এর মধ্যে সেনাবাহিনী ২০০টি, বিজিবি ১০০টি এবং পুলিশ ৫০টি ড্রোন পরিচালনা করবে।
- বিশাল বাহিনী মোতায়েন: সর্বমোট ৮ লাখ ৯৭ হাজার ১১৭ জন সদস্য নির্বাচনী মাঠে থাকবেন। এর মধ্যে ১ লাখ সেনা সদস্য এবং ৫ লাখ ৭৬ হাজার আনসার সদস্য রয়েছেন।
- কেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা: মোট ৪২,৭৬১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৮,৭৮০টিকে ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে পুলিশ সদস্যরা ২৫ হাজার বডি ওয়ার্ন ক্যামেরা ব্যবহার করবেন।
- জরুরি সেবা ৯৯৯: জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ একটি বিশেষ টিম গঠন করা হবে, যা সরাসরি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কন্ট্রোল রুমের সাথে যুক্ত থাকবে।
এক নজরে বাহিনীভিত্তিক সদস্য সংখ্যা ও ড্রোন বরাদ্দ:
| বাহিনীর নাম | মোতায়েনকৃত সদস্য | ড্রোনের সংখ্যা |
| বাংলাদেশ সেনাবাহিনী | ১,০০,০০০ জন | ২০০টি |
| বাংলাদেশ পুলিশ | ১,৪৯,৪৪৩ জন | ৫০টি |
| বিজিবি | ৩৭,৪৫৩ জন | ১০০টি |
| আনসার ও ভিডিপি | ৫,৭৬,৩১৪ জন | ১৬টি |
| র্যাব | ৭,৭০০ জন | ১৬টি |
| কোস্ট গার্ড ও অন্যান্য | ১৭,২১০ জন | ৩৬টি |
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও বিশেষ অভিযান:
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার যেকোনো অপতৎপরতা রুখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে দেশজুড়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারে বিশেষ চেক পয়েন্ট অভিযান শুরু হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের কাজও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ২০ জানুয়ারির মধ্যে সকল বাহিনীর বিশেষ নির্বাচনী প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
















