পাকিস্তানের করাচি শহরের গুল প্লাজা শপিং সেন্টারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৬০ জনে দাঁড়িয়েছে। একটি বন্ধ দোকান থেকে একসঙ্গে অন্তত ৩০টি মরদেহ উদ্ধারের পর এই সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যায় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
শনিবারের আগুনের ঘটনার পর বৃহস্পতিবারও গুল প্লাজায় উদ্ধার ও তল্লাশি কার্যক্রম চলেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখনো অন্তত ৮০ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘনবসতিপূর্ণ এই বাণিজ্যিক ভবনে আগুন লাগার পর থেকেই ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মরদেহ থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
করাচি দক্ষিণ অঞ্চলের উপ-পুলিশ প্রধান জানিয়েছেন, মেজানিন তলার একটি দোকান থেকে অন্তত ৩০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী মোট নিহতের সংখ্যা ৬১ হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর চূড়ান্ত সংখ্যা জানানো হবে।
করাচি দক্ষিণের জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, নিহতরা আগুনের সময় নিজেদের রক্ষা করতে দোকানটির ভেতরে তালাবদ্ধ হয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, আগুন লাগার পর শপিং সেন্টারের ভেতরে হুড়োহুড়ির সৃষ্টি হলে তারা দোকানটিতে ঢুকে পড়েন।
সিন্ধু প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী নিহতের সংখ্যা বৃদ্ধিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং সব মরদেহ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ অপসারণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
নিহতদের শনাক্ত করতে ধ্বংসাবশেষ থেকে উদ্ধার করা দেহাংশের নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, উদ্ধার কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
এ পর্যন্ত অর্ধশতাধিক পরিবার ডিএনএ নমুনা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রাদেশিক স্বাস্থ্য বিভাগের একজন কর্মকর্তা। নমুনা মিললে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
নিখোঁজদের স্বজনেরা উদ্ধার কার্যক্রমের ধীরগতির সমালোচনা করেছেন। একজন স্বজন জানান, তার বাবা ও ভাই আগুনের সময় শপিং সেন্টারের ভেতরে ছিলেন। তিনি দ্রুত মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানান, যাতে অন্তত শেষবারের মতো প্রিয়জনদের বিদায় জানানো যায়।
সিন্ধু সরকারের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান করাচি কমিশনার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানিয়েছেন, শপিং সেন্টারটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানের ছিল না। তবে এখনো আগুন লাগার নির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি।
করাচিতে অতীতেও বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যার জন্য প্রায়ই দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও অবৈধ নির্মাণকে দায়ী করা হয়। যদিও এত বেশি প্রাণহানির ঘটনা খুব কমই দেখা গেছে। এর আগে দুই হাজার তেইশ সালে শহরের একটি শপিং সেন্টারে আগুনে ১০ জন নিহত হয়েছিলেন। আর দুই হাজার বারো সালে একটি পোশাক কারখানার আগুনে প্রাণ যায় ২৬০ জনের।
















