আমদানি বাড়ানো ও সরকারি খাতে এলপিজি আনার সিদ্ধান্ত, বললেন জ্বালানি উপদেষ্টা
আসন্ন রমজান মাস শুরুর আগেই দেশে চলমান এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) সংকট কেটে যাবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন এলপিজি অপারেটররা। সংকট মোকাবিলায় সরকারও আমদানি ও বাজার তদারকিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছে।
আজ মঙ্গলবার অন্তর্বর্তী সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান–এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এলপিজি অপারেটররা রমজানের আগেই সংকট কাটিয়ে ওঠার আশ্বাস দেন।
সভায় জ্বালানি উপদেষ্টা সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা দিয়ে বলেন, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে এলপিজি আমদানির যে প্রতিশ্রুতি অপারেটররা দিয়েছেন, তা যেন বাস্তবে প্রতিফলিত হয়। এ লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকেও সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।
অপারেটরদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক বিরূপ পরিস্থিতির কারণে সাম্প্রতিক সময়ে এলপিজি আমদানি ব্যাহত হয়েছে। তবে তারা অতিরিক্ত দাম বাড়াচ্ছেন—এমন অভিযোগ অস্বীকার করেন অপারেটররা। তাদের দাবি, জানুয়ারি মাসে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন এলপিজি আমদানির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা গেলে বাজারের সংকট অনেকটাই কেটে যাবে।
এর আগে সোমবার টাঙ্গাইলের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে গণভোটের পক্ষে প্রচারণায় গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, দেশের এলপিজি খাতের প্রায় ৯৮ শতাংশই বেসরকারি খাতে পরিচালিত হচ্ছে, মাত্র দুই শতাংশ সরবরাহ আসে ইস্টার্ন রিফাইনারি থেকে।
তিনি বলেন, “এখন আমরা বুঝতে পারছি, পুরোপুরি বেসরকারি খাতে এলপিজি দেওয়া হয়তো সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল না। সে কারণেই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সরকারি খাতেও এলপিজি আমদানি করা হবে।” এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন–কে এলপিজি আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
সংকট নিরসনে অপারেটররা অতিরিক্ত এলপিজি আমদানির আশ্বাস দিয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, শিগগিরই পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে বলে সরকার আশা করছে। তবে কৃত্রিম সংকটের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না উল্লেখ করে তিনি জানান, জেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে বাজার তদারকি করছে।
জাহাজ সংকটের প্রসঙ্গ তুলে ধরে ফাওজুল কবির খান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নিষেধাজ্ঞার কারণে কিছু জাহাজ ব্যবহারের বাইরে চলে যাওয়ায় আমদানি ব্যাহত হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে যৌথ প্রচেষ্টায় এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং দাম সরকারি নির্ধারিত পর্যায়ে নামিয়ে আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
















